উড়বে যখন প্রজাপতি, হুল ফোটাবে বোলতা—বক্সিংয়ের বহুল প্রচলিত এক প্রবাদ। আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেও কথাটি বোধহয় কম প্রাসঙ্গিক নয়। নিজেকে বাঁচাতে হুল ফুটিয়ে দাও শত্রুর মুখে। এক ঘুঁষিতে কাত! বক্সিং শব্দটা শুনলে চোখের সামনে ভাসে মোহাম্মদ আলীর কালজয়ী চেহারা। বিশ্বব্যাপী ভীষণ জনপ্রিয় এই খেলাটি বাংলাদেশে সেভাবে জনপ্রিয় নয়। পুরুষরাই যেখানে পিছিয়ে, নারীদের এগিয়ে আসা তো 'দূর কি বাত'!
দূরের সেই ভাবনাকে সত্যি করেই ২০১৪ সালে বক্সিংয়ে আসেন তামান্না হক। স্রেফ শখের বশে নয়, ইচ্ছা ও আগ্রহ থেকেই ভিন্নধর্মী গ্লাভসজোড়া হাতে তুলে নেন তিনি। পেশাদার বক্সিংয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে নাম লিখিয়ে গড়েন ইতিহাস।
এরপর এক দশক পেরিয়েছে। দেখেছেন জীবনের অনেক বাঁকবদল। বক্সিংয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজেকে। তামান্না এখন কেবল বক্সার নন। নিজেকে বিস্তৃত করেছেন। কমব্যাট মার্শাল আর্ট, কিক বক্সিং, কুংফুর পাশাপাশি নিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের মিলিটারি প্রশিক্ষণ। দেশের বাইরে থেকে শিখে এসেছেন ফিটনেস সম্পর্কিত নানা খুঁটিনাটি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন দেশের কয়েকটি জিমনেসিয়ামে। এসবের বাইরে তামান্নার যে কাজটি তাকে মানসিক শান্তি দেয়, সেটি হলো নারীদের নিয়ে কাজ করা। রেপ ভিক্টিম ও নারীদের সেল্ফ-ডিফেন্স নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
তবে, দেশের প্রথম নারী বক্সার হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। ইতালি, গ্রিসসহ একাধিক দেশে আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও বক্সিং ফেডারেশনের বেখেয়াল ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব তাকে উড়তে দেয়নি। অথচ তার আত্মবিশ্বাস আছে সুযোগ পেলে দেশকে আন্তর্জাতিক পদক এনে দেওয়ার।
নারীরা সবদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। তামান্নার মতো নারীদের সাহসী পদক্ষেপ আগামীর প্রজন্মকে প্রত্যয়ী করে তুলবে, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক চর্চা। ওই যে, হুল ফোটানোর জন্য একটা মঞ্চ গড়ে দেওয়া। যে মঞ্চে উড়বে লাল সবুজের পতাকা।