রাঙ্গুনিয়ায় আমন চাষাবাদে অনিশ্চয়তা

নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি

 রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলায় আমন চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আষাঢ়ের অতিক্রান্তেও বর্ষার রূপ নেই প্রকৃতিতে। খরা ও দাবদাহে আমনের চাষাবাদে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে।

কৃষকেরা জানায়, বৃষ্টির সেচ নির্ভর আমন মৌসুমের চাষাবাদ। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত নেই। বীজ বপন করে চারা উত্পাদন করার কৃষি প্রক্রিয়ার এ সময়ে পানি সেচের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। পানি সেচের অভাবে বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষির ব্যস্ততম এ সময়ে কৃষকেরা অগত্যা হাত গুটিয়ে বসে আছে।

গুমাই বিলের কৃষক চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, বর্ষা মৌসুমের মাস আষাঢ়ের বেশিরভাগ সময় অতিক্রান্ত হলেও মৌসুমি বায়ুর প্রভাব নেই। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক পসলা বৃষ্টিপাত হলেও তাতে জমিতে সেচের পানি ধারণ হয় না। এতে জমিতে চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরি সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একমাত্র পৌরসভা এলাকার ছোটো-বড়ো অর্ধশতাধিক বিলে স্থানীয় ও উফশী জাতের ধানের চাষাবাদের এই লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার জমিতে রোপা দিতে চারা উত্পাদনের জন্য ৭৬১ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যথাসময়ে বীজতলা তৈরি বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ৩০ জুন অবধি মাত্র ১৫ হেক্টরে আমন বীজতলা তৈরি হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোকন বিশ্বাস জানান, আমন চাষাবাদে সার্বিক সহায়তার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কৃষিতে কৃষকের উত্সাহ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি আমন মৌসুমে লাভজনক উত্পাদনের নতুন প্রজাতির উফশী জাতের ধানের প্রদর্শনী চাষাবাদ করা হচ্ছে। সার বীজ ইত্যাদি প্রণোদনা ছাড়াও চাষাবাদে কৃষকের ফসল রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বালাই দমন পরামর্শ দিকে কৃষি বিভাগের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, জুলাইয়ের শেষের দিকে জমিতে আমন রোপা দেওয়ার উপযুক্ত সময়। কিন্তু বর্ষার শুরুতে প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশ থাকায় যথাসময়ে কৃষকেরা বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। বৃষ্টিপাতের অভাবে কৃষকের চারা উত্পাদনের প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এতে মৌসুমের আমন চাষাবাদ বিলম্বিত হচ্ছে।