শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
ভরা আষাঢ়েও বৃষ্টির দেখা নেই। মৌসুমের অর্ধেকটা সময় শেষ। পানির অভাবে মাছও নেই। তাই বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। কথাগুলো বলছিলেন শরণখোলা উপজেলার চাঁইগ্রামখ্যাত উত্তর কদমতলা গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি।
চাঁই ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি বলেন, বছরের জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ এ তিন মাস তারা ব্যবসা করেন। এর আগে মাঘ মাসে গ্রাম থেকে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মাছ ধরার চাঁই বানানো শুরু করেন। বৈশাখ মাস পর্যন্ত তারা একেকজন এক থেকে দেড় হাজার চাঁই তৈরি করেন। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে তাদের বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ চাঁই কিনে নিয়ে খালবিল মাঠঘাটে মাছ ধরেন। তিনি বছরে দুই লাখ টাকার চাঁই বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করেন যা দিয়ে সারাবছর সংসার চালান। এ বছর তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠেঘাটে পানি নেই ফলে চাঁই বিক্রি হচ্ছে না। একই ধরনের কথা বলছিলেন চাঁই ব্যবসায়ী আনোয়ার আকনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, দুলাল হাওলাদার, রফিকুল, ফরিদ, খোকন, হাবিব, হেলাল ও রাসেল হাং। তারা জানান, উত্তর কদমতলা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার গত প্রায় ৩০ বছর ধরে গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন। মোড়েলগঞ্জ, সন্যাসী, তুষখালী, মঠবাড়ীয়া, ভাণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা এসে পাইকারী দরে হাজার হাজার চাঁই কিনে নিয়ে যায়। একটি চাঁই ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয় এখানে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাঁই বেচাকেনা হয়ে থাকে বলে ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার জানান। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় চাঁই তেমন বিক্রি হচ্ছে না। বানানো হাজার হাজার চাঁই অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।