রিমেমবার দ্য নেম
স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্যারিবিয়ানদের দানবীয় ব্যাটিংয়ে আক্রমণই শেষ কথা। বোলারদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে একটা সৌন্দর্যও আছে এমন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে। ২০১৬ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে বেন স্টোকসকে চার বলে চার ছক্কা মেরে ব্যাটিং-দানবের কাতারে নাম তুলেছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। তখনই ক্রিকেট-বিশ্ব জেনেছিল আসুরিক শক্তির আরেক ক্যারিবিয়ানকে।
তার পর থেকেই এই ৩০ বছর বয়সি অলরাউন্ডারের নামের পাশে যোগ হয় অনেক বিশেষণ। তবে গত কয়েক বছরে তাঁর নামের সঙ্গে সবচেয়ে বেশিবার উচ্চারিত হয়েছে ‘কার্লোস ব্রেথওয়েট :রিমেমবার দ্য নেম’ শব্দগুলো। সাবেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের ভরাট কণ্ঠে বলা এই শব্দগুলো এখন ব্রেথওয়েটের নামের পাশে স্থায়ী হয়ে গেছে। শুরুতে এমন ট্যাগ দেখলেই লজ্জা পেতেন তিনি। এখন অবশ্য এই ট্যাগটা মন থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তা উপভোগও করেন। এবার বিশ্বকাপেও তাঁকে মনে রাখার মতো উপলক্ষ্য তৈরি করেছেন তিনি।
গত ২২ জুন ম্যানচেস্টারে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে একাই ঘুরিয়ে ফেলেছিলেন ব্রেথওয়েট। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুলেছিলেন। জয়ের দ্বারপ্রান্তেও নিয়ে গেছেন। কিন্তু তীরে এসে তরি ডুবে গিয়েছিল। ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ব্রেথওয়েট। বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন। ১০১ রানের ইনিংস খেলে ‘ট্র্যাজিক হিরো’ বনে যান তিনি। ওই ম্যাচের পরই আরেকবার ‘রিমেমবার দ্য নেম’ ট্যাগসহ প্রশংসা-বৃষ্টিতে ভিজেছেন ব্রেথওয়েট।
৯ ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানকে ২৩ পরাজিত করেছে উইন্ডিজরা। ম্যাচে ৬৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ব্রেথওয়েট। বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৫৪ রান ও ৯ উইকেট পেয়েছেন এই ডানহাতি অলরাউন্ডার।
ব্রেথওয়েটের জন্য মানসিক যন্ত্রণার কারণও হয়ে পড়েছিল ঐ ট্যাগ। তিনি স্বীকার করেছেন মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ক্রিকেটার থেকে মনোবিদ হওয়া মিডলসেক্সের স্টিভ সিলভেস্টেরের সঙ্গে কাজও করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর ব্রেথওয়েট সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রথমত আমি “রিমেমবার দ্য নেম” ট্যাগটা গ্রহণ করেছি। আমার মনে হয় আমি কিছুটা লজ্জা পেতাম এর জন্য। আমি প্রায়ই ভাবতাম, এটা আমার জন্য অভিশাপ। এটা গ্রহণ করার বিষয় আছে, আমি যা করব তা অনেক বছর মনে রাখা হবে, মেনেছি এমন কিছু করার সুযোগ আমার আছে। মানুষের কাছ থেকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি যত ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি তা সাজিয়ে রাখব।’
ব্রেথওয়েট আরো বলেন, ‘কারণ যখন আমি বাজে খেলব, তার অন্য দিকও থাকবে। তাই আমি এটা গ্রহণ করেছি এবং এখন এটা শুনতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’
বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি জানিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় প্রত্যাশার চাপে কিছুটা নুয়ে পড়েছিলাম। যেমন চেয়েছিলাম, তেমন পারফরম্যান্স করতে পারিনি। আশা করি, এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের লম্বা ও সফল ক্যারিয়ারের পথে আমার জন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে।’