পাচারকারী ও জালিয়াতি চক্র বেপরোয়া

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাচারকারী ও জালিয়াত চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এদের তত্পরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিমানবন্দরে বিনা শুল্কে ১৬টি পণ্যের চালান জালিয়াতির মাধ্যমে খালাসের ঘটনা সম্প্রতি উদ্ঘাটিত হয়েছে। সেইসঙ্গে চলছে মাদক ও স্বর্ণ পাচারকারীদের তত্পরতা। ধারণা করা হচ্ছে—প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেটের অপতত্পরতায় এ বিমানবন্দরকে ঘিরে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদের প্রতিরোধ, গ্রেফতার ও পণ্য উদ্ধারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বিভাগ তাদের তত্পরতা অব্যাহত রাখলেও কমছে না তাদের অপতত্পরতা। সম্প্রতি এই বিমানবন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে বিনা শুল্কে ১৬টি পণ্যের চালান খালাসের তথ্য বের হয়ে আসে। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি এ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে ১৬টি চালান খালাসের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। কাস্টম হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কিংবা দায়িত্বে অবহেলার সুযোগে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং লাইন্স লিমিটেড এ জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলমের কাছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কাস্টমস হাউজ সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে ইনপুট ও রাজস্ব জমা না দিয়ে    খালাস নেওয়া ১২টি চালানের তদন্তকালে এ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস নেওয়া ১৬টি চালান পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে চিহ্নিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, কাস্টম হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সংযোগসহ পণ্য খালাসের মূল ফটকে একটি কম্পিউটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দায়ী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাস্টম সূত্র আরো জানায়, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ  দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, দোষী কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তসহ ফৌজদারি মামলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরে কার্গো চালান জালিয়াতির ঘটনায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সচিব করা হয় সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলামকে। সদস্য ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার মণ্ডল। ১০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করে কমিটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার বরাবরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি তদন্তকালে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজের ২০১৮ সালের খালাস নেওয়া চালানগুলো খতিয়ে দেখে। বিশেষ করে পণ্য পরীক্ষা না করা, শুল্কায়ন না করা, রাজস্ব জমা না দেওয়া, রিলিজ অর্ডার ইস্যু হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা, জালিয়াতির সঙ্গে কাস্টম হাউজ, সিভিল অ্যাভিয়েশন বা বিমানের কোনো কর্মী জড়িত কি না এ ধরনের অনিয়মসমূহ প্রতিরোধে ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণে তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন প্রণয়নে কাজ করেছে।