ছাত্রলীগের হামলা
রাবি সংবাদদাতা
বাণিজ্যিক সিনেমার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক সাংবাদিকসহ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সাত নেতা-কর্মীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আলী ইউনুস হূদয়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এএম শাকিল, প্রচার সম্পাদক লিটন চন্দ্র, সদস্য শাকিলা খাতুন, ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক ঈসরাফিল আলম, সদস্য রাশেদ রিমন, আশরাফুল আলম, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মহব্বত হোসেন মিলন প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু হাসান বলেন, প্রক্টরের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের বেধড়ক মারধর করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘সিনেমা প্রদর্শনী নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা ঝামেলা তৈরি করছে বলে প্রক্টর আমাদের জানায়। পরে আমি এসে দেখি সেখানে বাকবিতণ্ডা চলছে। জোটের এক নেতা প্রক্টরের গায়ে ধাক্কা দিলে আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।’ প্রক্টরের গায়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এমন বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান।
মারধরের বিষয় জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান বলেন, ‘যদি সিনেমাটি দেখার মতো না হতো তাহলে আমরাই বন্ধ করে দিতাম। তবে আন্দোলনকারীরা বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে। পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এদিকে সাংবাদিক আলী ইউনুস হূদয়কে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাবিতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। গতকাল রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় ছাত্রলীগ নেতা সাবরুল জামিল সুষ্ময়কে বহিষ্কারের দাবি জানায়।
উল্লেখ্য, জাজ মাল্টিমিডিয়া দহন সিনেমাটি প্রদর্শনীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনটি ভাড়া নেয়। আগামী ১-৬ ডিসেম্বর সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেইজে প্রচারণা শুরু করে। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
০