তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল রবিবার দুপুর থেকে পুলিশ তালিকা করে মুসল্লিদের গেটের ভিতর প্রবেশ করিয়ে তাদের মালামাল ফেরত নেবার ব্যবস্থা করেছে। এতে মুসল্লিদের প্রচণ্ড ভিড় জমে গেলেও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এদিকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় ২০/২৫ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষে একজন মুসুল্লি নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। লাশ দাফনের পর নিহতের স্বজনরা মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
গত শনিবার ইজতেমা ময়দানে আধিপত্য ও নেতৃত্বের কোন্দল নিয়ে তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী ও দেওবন্দসহ কওমী মাদ্রাসাপন্থী দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইসমাইল মণ্ডল মারা যান, আহত হন অন্তত দেড় শতাধিক। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আহতদের বেশিরভাগ শনিবার রাতেই চিকিত্সা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন। উন্নত চিকিত্সার জন্য ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাদবিরোধীরা। গতকাল সাদবিরোধীরা রাজধানীর পল্টনে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশের সামনেই সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার, আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর ইজতেমা অনুষ্ঠানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া আজ সোমবার সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেবেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আমানুল হক। সংঘর্ষে নিহত ইসমাইল তাদের অনুসারী বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অবশ্য ঘটনার দিনই নিহত ইসমাইলের ছেলে জাহিদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, তার বাবা সাদপন্থী।
উল্লেখ্য, দেওবন্দ কওমিপন্থী মাওলানা জুবায়ের ও তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিপন্থীদের মধ্যে গত কয়েক বছর যাবত্ বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরেই ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।