তেহরান পারমাণবিক নীতি বদলাতে পারে: ইরান কমান্ডার

ইসরায়েলের হুমকির পর ইরান তার ‘পারমাণবিক মতবাদ’ পরিবর্তন করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন একজন সিনিয়র রেভোলিউশনারি গার্ড কমান্ডার। তিনি বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন। খবর রয়টার্সের।

পারমাণবিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানের গার্ডস কমান্ডার আহমেদ হাগতালাবের বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ‘ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী শাসকদের (ইসরায়েল) হুমকি আমাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন করা এবং আমাদের পূর্বের নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য করবে।’

সম্প্রতি হামলার পর তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলসহ পশ্চিমা নেতারা। তেহরান সবসময় শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করে আসছিল।

গত ১৩ এপ্রিল তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান। এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। তেহরান বলেছে, ১ এপ্রিল দামেস্কে তার দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি সন্দেহভাজন ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেই হামলাটি চালানো হয়েছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলেছেন। এতে পশ্চিমারা সন্দেহ করছে যে এর পেছনে নিশ্চয়ই সামরিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

২০২১ সালে ইরানের তৎকালীন গোয়েন্দা মন্ত্রী বলেছিলেন, পশ্চিমা চাপ অব্যাহত থাকলে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের সন্ধান বাড়াতে পারে। এর বিকাশ খামেনি ২০০০-এর দশকের শুরুতে একটি ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রিতে নিষিদ্ধ করেছিলেন।

খামেনি ২০১৯ সালে বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক বোমা তৈরি ও মজুদ করা ভুল। এটি ব্যবহার করা হারাম। যদিও আমাদের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি রয়েছে, কিন্তু ইরান দৃঢ়ভাবে তা এড়িয়ে গেছে।’

হাগতলাব বলেছেন, ‘যদি ইহুদিবাদী শাসক আমাদের পারমাণবিক কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় তবে আমরা অবশ্যই এবং স্পষ্টভাবে তাদের নিজস্ব পারমাণবিক স্থাপনায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জবাব দেব।’

ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি চালু করতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যে আলোচনা তা ২০২২ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুসারে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জাতিসংঘের নির্দেশনা ব্যতিত কোনো কর্মসূচী নিতে পারবে না তেহরান।

চুক্তি অনুযায়ী ৩.৬৭ শতাংশের বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারবে না ইরান। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে আসেন।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার হারে ইউরেনিয়াম মজুদকরণ অব্যাহত রেখেছে যা বাণিজ্যিক পারমাণবিক ব্যবহারকেও ছাড়িয়ে গেছে।