ময়লা আবর্জনায় বিষাক্ত বংশী নদীর পানি

রাজধানীর নিকটবর্তী সাভারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশী নদী আজ চরম দূষণের কবলে। কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ও নদীর তীরে ফেলা শহরের ময়লা আবর্জনার কারণে বংশীর পানি যেন বিষে পরিণত হয়েছে। ফলে নদীর ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠির সার্বিক স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশ আজ বিপন্ন।  এককালে রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী সাভারবাসীর জন্য আশীর্বাদ ছিল। কিন্তু এখন তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে জমির ঊর্বরতা শক্তি। ধ্বংসের পথে মত্স্য সম্পদ। নদীর তীরে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে সহজেই তা নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে। নাব্যতা হারিয়ে কমে গেছে নদীর পানি প্রবাহ। বংশী পরিণত হয়েছে দূষণের নদীতে। নদীতে পানির চেয়ে যেন বর্জ্যই বেশি। মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ও বর্জ্যের মিশ্রণে নদীর পানির রং পাল্টে  কালচে হয়ে গেছে।

বংশী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অনেক মিল-কারখানা। এ নদীতে বিপুল পরিমাণ শিল্প বর্জ্য ফেলার কারণে পানি আজ দূষিত হতে হতে বিষময় হয়ে পড়েছে। ডাইং ইউনিটগুলোতে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু না হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে জন্ডিস, ডায়রিয়া, উচ্চরক্তচাপ, মূত্রনালি ও কিডনিজনিত রোগ, চর্মরোগসহ ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এদিকে দূষণের কারণে নদীতে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে, জলজ উদ্ভিদও মরে যাচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্যের বিষক্রিয়ায় জমির ফসলের ফলনও অনেক কমে গেছে।

সাভারে বংশী নদীর তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন নামাবাজারে দৈনিক মালামাল, শাক-সবজি, তরি-তরকারির একটি বড়ো অংশ পরিবহনের জন্য বংশী নদীকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দখল দূষণের কবলে পড়ে বংশীর নাব্যতা না থাকায় ব্যবসায়ীদের অধিক টাকা ব্যয়ে সড়কপথে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। নদী দূষণের কারণে বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযোগ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেওয়া হলেও সমস্যা সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

সাভার নামাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী ও নদী তীরবর্তী ফোর্ডনগর এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, একসময় এ নদীতে আমরা গোসল করতাম এবং মাঠ থেকে সবজি তুলে নদীর পানিতে ধুয়ে বাজারে নিয়ে আসতাম। কিন্তু আজ তা কল্পনাই করা যায় না।

ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. কাইয়ুম খান বলেন, একসময় বংশী নদীর পানি স্বচ্ছ ও ব্যবহার উপযোগী ছিল। কিন্তু বর্তমানে দূষণের ফলে নদী তার আগের চেহারা হারিয়ে ফেলেছে। এখন নদীর পানি শরীরে লাগলেও বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বংশী নদী তার অস্তিত্ব হারাবে।