প্রথমে দোকানে পরে হাসপাতালে ঢুকে মারধর

নড়াইলে নাছির উদ্দিন নামের এক কলেজছাত্রের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঠেকাতে গিয়ে হাসপাতালের একজন নার্স এবং ঐ কলেজছাত্রের পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। ঘটনার পর থেকে ঐ যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আহত নাছির লোহাগড়া উপজেলার শালবরাত গ্রামের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে এবং লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আহত নাছির জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সে লোহাগড়া বাজারের মোল্লা মার্কেটের তালহা ফ্যাশনে টি-শার্ট কিনতে যায়। এ সময় দুটি টি-শার্টের দাম ঐ দোকানদার ৪০০ টাকা দাবি করলে তিনি ৩০০ টাকা দাম বলায় বিক্রেতা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাকে দোকানদার শামীম, বিপ্লবসহ তিন-চার জন মিলে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। পরে আহতাবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। কিন্তু রাত ৮টার দিকে ঐ দোকানদারসহ অপরিচিত ১৫/১৬ জন লোক এসে হাসপাতালের বেডে তাকে কিলঘুষি মারে এবং ধারালো অস্ত্র ও ক্ষুর দিয়ে কোপাতে যায়। এ সময় ঠেকাতে গিয়ে তার মা রেনা বেগম, ছোটো ভাই নাইম মিয়া, ছোটো বোন টেকলি এবং একজন নার্স আহত হয়।

নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, খবর শুনেই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগও করেনি।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক এ এফ এম মহিউদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের বেডে গিয়ে হামলা চালায়। হাসপাতালের অভ্যন্তরে এসে মারার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।