ক্যান্সার শনাক্তে প্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. জসিম উদ্দিনের জৈব যৌগ আবিষ্কার

প্রাণঘাতী কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ের নাম কোলনিক অ্যাডেনোমা। এটি নির্ণয়ের মাধ্যমে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনলে এই মরণব্যাধিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

অ্যাডেনোমায় আক্রান্ত কোষগুলোতে সাইক্লোঅক্সিজেনেজ-২ (কক্স-২) এনজাইম অতিরিক্ত মাত্রায় বিস্তৃত থাকতে দেখা যায়। এটি শনাক্তকরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. জসিম উদ্দিন একটি জৈব যৌগ আবিষ্কার করেছেন। এটি ফ্লোরকক্সিব নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এ প্রাণরাসায়নিক যৌগটি প্রাণির দেহে প্রবেশ করানোর পর এটি কক্স-২ এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করা শুরু করে। 

বর্তমানে ড. জসিম উদ্দিন মেরি গেডেস স্ট্যাহলম্যানের ক্যানসার রিসার্চের অধ্যাপক এবং বায়োকেমিস্ট্রির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. জসিম উদ্দিনের এই আবিষ্কার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী দি ক্যান্সার রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিষ্কারের খবরটি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে, ড. জসিম উদ্দিনের ফ্লোরকক্সিব ক্যান্সারের প্রথম কক্স-২ ভিত্তিক ইমেজিং এজেন্টসহ অন্যান্য বিষয়গুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত হোয়াইট-লাইট কোলনোস্কোপি কোলন ক্যান্সার শনাক্তকরণে একমাত্র ক্লিনিকাল পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু এতে ৩০ শতাংশ অ্যাডেনোমা অদৃশ্য বা নির্ণয়ের বাইরে থেকে যায়। পরে তা কোলন ক্যান্সার হিসেবে শনাক্ত হয়। ফলে, একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

ড. জসিম উদ্দিন ফ্লোরকক্সিব-ভিত্তিক যে নতুন ন্যানোপ্রযুক্তিটি আবিষ্কার করেছেন, এটি কোলনিক অ্যাডেনোমায় কক্স-২ এনজাইমকে খুব সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম। এতে তিনি ক্লরোনিক নামের যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদিত একটি পলিমার ব্যবহার করেছেন। 

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী দি জার্নাল অব বায়োমেডিক্যাল অপটিক্সে ২০২৩ সালে প্রকাশিত এই নুতন আবিষ্কারটি ফ্লুরেসেন্স দ্বারা কোলনিক অ্যাডেনোমা শনাক্তকরণে প্রথম এবং এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন তার এই নতুন ন্যানোপ্রযুক্তিটি মানবকল্যাণে অবদান রাখার অপেক্ষায় রয়েছে।