ইনিংস ব্যবধান জয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

শেমরন লুইসের পায়ে বলটা লাগতেই সমস্বরে আউটের আবেদন। তাইজুল-মুশফিকের সঙ্গে শুধু শেরেবাংলার গ্যালারি নয় গোটা বাংলাদেশই যেন আউটের আবেদন করেছিল। কালবিলম্ব না করে আলিম দারও আঙুল তুলেছিলেন। মুহূর্তেই স্ট্যাম্প তুলে উদযাপনে মাতেন মিরাজ-তাইজুলরা। কিন্তু তখন যে রিভিউ চেয়ে বসেন লুইস। রিভিউতে সুফল পাননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটসম্যান। এই কালক্ষেপণে বিজয় উত্সবটাও যেন দুবার হলো।

২০১২ সালেও দেশের মাটিতে উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ম্যাচে ইলিয়াস সানির ভুলে দ্বিতীয়বার জয় উত্সব করেছিল বাংলাদেশ। এবার নিজেদের আঙিনায় একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণেও থাকলো সেই ঘটনার রেশ। গতকাল মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্টইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে নিজেদের ১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো প্রতিপক্ষকে ফলো অনে ফেলা ও ইনিংস ব্যবধানে হারানোর গৌরব অর্জন করলো টাইগাররা। সিরিজটাও জিতল ২-০ তে।

টেস্টে ১৩তম জয়ে নিশ্চিত হলো চতুর্থ সিরিজ জয়। যার মধ্যে তিনবারই প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। দুবার সেই তিক্ত স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। ক্লাইভ লয়েড-ভিভ রিচার্ডসের দেশের বিরুদ্ধে এটি চতুর্থ জয়। তাদের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে এটিই প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়। ঠিক বলে-কয়ে হয়তো নয় তবে কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব চুকিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। গত জুলাইয়ে বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে ২-০ তে টেস্ট সিরিজ হারিয়েছিল ওয়েস্টইন্ডিজ। অ্যান্টিগা, কিংস্টনে ম্যাচগুলো শেষ হয়েছিল তিন দিনে। চার মাস পর পেস বোলিংয়ের জবাবে ঘূর্ণি জাদু নিয়ে হাজির বাংলাদেশ। নাকানি-চুবানি খেয়ে উইন্ডিজরাও দুটি ম্যাচ হারল তিন দিনে। চট্টগ্রামে ৬৪ রানের পর গতকাল মিরপুর তো ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জাই পেল সফরকারীরা।

বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে গতকাল সকালে ওয়েস্টইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ১১১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা। ১২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ সেরার পুরস্কার পান সাকিব। 

এর আগে সকালে এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৬ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় সফরকারীরা। ঘূর্ণি জাদুতে ত্রাস ছড়ান মিরাজ। হেটমায়ারকে কট এন্ড বোল্ড করে শুরু এই অফস্পিনারের। তারপর বিশু, কেমার রোচকেও ফেরান তিনি। শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ডাওরিচও মিরাজের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। লুইসকে আউট করে ক্যারিবিয়ানের ব্যাটিং লেজটা গুটিয়ে দেন সাকিব। হেটমায়ার ৩৯, ডাওরিচ ৩৭, হোপ ১০ রান করেন। আর কেউ দুঅঙ্কের ঘরই স্পর্শ করতে পারেননি। মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা ৫৮ রানে ৭টি, সাকিব তিনটি উইকেট পান।

ফলো অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চের আগেই ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে উইন্ডিজরা। ইনিংসের পঞ্চম বলে ব্রেথওয়েটকে ফেরান সাকিব। পাওয়েল স্ট্যাম্পড হন মিরাজের বলে। তারপর তাইজুলের জোড়া শিকার হয়ে সাজঘরে যান আমব্রিস ও রোস্টন চেজ। পঞ্চম উইকেটে হেটমায়ার- শেই হোপ ৫৬ রানের জুটি গড়েন। লাঞ্চের পর হোপের ৭৫ বলে ২৫ রানের সংগ্রামী ইনিংসের ইতি ঘটে মিরাজের বলে পুল করতে গিয়ে। ডাওরিচকে স্থায়ী হতে দেননি নাঈম। সপ্তম উইকেটে বিশুর সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়েন হেটমায়ার। সেই জুটিও ভাঙেন মিরাজ। ১২ রান করে বিশু স্লিপে ক্যাচ দেন।