বাংলা-দ্বিতীয়পত্র
মো. শহীদুর রহমান,সহকারী শিক্ষক
বারাজান এসসি উচ্চ বিদ্যালয়
লালমনিরহাট।
প্রতিবেদন রচনার নিয়ম-কানুন
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, শুভেচ্ছা রইল। আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘প্রতিবেদন রচনার নিয়ম-কানুন’ নিয়ে আলোচনা করছি। আশা করি, আলোচনাটি তোমাদের উপকারে আসবে।
বন্ধুরা, তোমরা জানো যে, তোমাদের বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের রচনামূলক অংশের পরীক্ষায় মোট ৬টি প্রশ্ন থাকে। তন্মধ্যে সেখানে ৫ নম্বর প্রশ্নটিই হচ্ছে প্রতিবেদন রচনা। এর মান হচ্ছে ১০।
বন্ধুরা, প্রতিবেদন শব্দটি একটি পারিভাষিক শব্দ। এটি ইংরেজি ‘রিপোর্ট’ শব্দের ভাবানুবাদমূলক শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিবৃতি বা বিবরণী। তবে সে বিবৃতি বা বিবরণী অবশ্যই তথ্যভিত্তিক হতে হবে।
তাহলে আমরা বলতে পারি যে, কোনো তথ্যভিত্তিক ঘটনা অবলম্বনে কিংবা কোনো সমস্যা নিয়ে বিবৃতি বা বিবরণী তৈরি করে তা কোনো পত্রিকায় তুলে ধরা কিংবা কোনো দাপ্তরিক বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ ও মতামত জানিয়ে কোনো পত্রিকা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবরণ প্রদান করাকেই প্রতিবেদন বলে।
বন্ধুরা, তোমরা জানো যে, প্রতিবেদন মূলত তিন ধরণের হয়ে থাকে। যথা-
ক) সাধারণ প্রতিবেদন। এ ধরণের প্রতিবেদন অবশ্য যেকোনো সচেতন ব্যক্তি রচনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো বয়স বা শিক্ষার দরকার হয় না।
খ) কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে রচিত প্রতিবেদন। এ ধরণের প্রতিবেদন সাধারণত কোনো কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ কিংবা নির্দেশক্রমে রচিত হয়ে থাকে। সাধারণত একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট এ ধরণের প্রতিবেদন রচনা করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে যে, প্রতিবেদন রচনার সময় প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক দেয় স্মারক নম্বর ও তারিখ প্রতিবেদন রচনার শুরুতে প্রতিবেদককে উল্লেখ করতে হবে।
গ) প্রতিবেদক বা নিজস্ব প্রতিবেদক কিংবা স্টাফ রিপোর্টারের প্রতিবেদন। এ ধরণের প্রতিবেদন সাধারণত বিভিন্ন সংবাদপত্র বা রেডিও-টিভি‘র প্রতিবেদক বা তাঁদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্টাফ রিপোর্টারগণ রচনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাধারণত পত্রপত্রিকা কিংবা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলসমূহের নাম-ঠিকানা উল্লেখপূর্বক এবং প্রতিবেদক বা নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্টাফ রিপোর্টারদের স্বাক্ষর থাকতে হয়।
বন্ধুরা, তোমরা জেনে রাখবে যে, প্রতিবেদন রচনার নিয়ম হিসেবে সাধারণত প্রতিবেদনকে ৪টি অংশে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর প্রথম অংশ হচ্ছে ‘শিরোনাম’। এটি আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লিখিত হয়ে থাকে।
এরপর দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে ‘বিষয় বিবরণ’। এটি শিরোনামের পরে পরেই রচিত হয়ে থাকে। এখানে সাধারণত যে বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করার কথা বলা হয়ে থাকে, তার বিস্তৃত বিবরণ উল্লেখ থাকবে।
তৃতীয় অংশটি হচ্ছে ‘মতামত’ বা ‘সুপারিশ’। সাধারণত প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশ অর্থাত্ বিষয় বিবরণ রচনা শেষ হলে পরবর্তী অনুচ্ছেদে রচনাকারী বা প্রতিবেদক তার মতামত বা সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
প্রতিবেদনের চতুর্থ বা শেষ অংশটি হচ্ছে প্রতিবেদক বা রচনাকারীর নাম। সাধারণত প্রতিবেদন রচনা শেষে রচনাকারী বা প্রতিবেদক তার নাম স্বাক্ষর করবে বা লেখবে।
এছাড়াও সাধারণত প্রতিবেদনটি ‘সাধারণ প্রতিবেদন’ হলে সেক্ষেত্রে প্রতিবেদন রচনার শুরুতে ওপরে বক্স করে প্রথম লাইনে প্রতিবেদনের বিষয়, এরপর দ্বিতীয় লাইনে প্রতিবেদকের নাম, এরপর তৃতীয় লাইনে প্রতিবেদন রচনার স্থান এবং সর্বশেষ লাইনে প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণের সময় ও তারিখ লেখারও প্রচলন আছে।
শিক্ষার্থীবৃন্দ, মনে রাখবে যে, প্রতিবেদনের ভাষা অবশ্যই সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষই এর পাঠক হয়ে থাকে। তাই আকর্ষণীয় উপস্থাপনা ও রসালো বর্ণনা-কৌশল একটি সুন্দর প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। তাছাড়াও, বিষয়ভিত্তিক একটি সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর শিরোনাম নির্ধারণও প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে একান্তভাবে কাম্য।