সময়ের সেরা, সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলটা নিয়ে এবার বিশ্বকাপ মিশনে গিয়েও সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। অতীতের মতোই তিন জয় এবং সেমির চৌকাঠে পা রাখতে না পারার হতাশা নিয়েই আজ দেশে ফিরছে টাইগাররা। অতীতের আসর, বর্তমান দল বিবেচনায় বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপ মিশন দৃশ্যত ব্যর্থ।
g স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ছয়টি আসরে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকেই দুটি ম্যাচ জিতেছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দল। ২০০৩ সালের আসরে জয়শূন্য ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ জয়ের দিক থেকে সমান্তরালে রয়েছে পরের চার আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
সময়ের সেরা, সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলটা নিয়ে এবার বিশ্বকাপ মিশনে গিয়েও সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। অতীতের মতোই তিন জয় এবং সেমির চৌকাঠে পা রাখতে না পারার হতাশা নিয়েই আজ দেশে ফিরছে টাইগাররা। অতীতের আসর, বর্তমান দল বিবেচনায় বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপ মিশনকে ‘ব্যর্থ’ বলাই যায়।
আট ম্যাচের মাত্র তিনটিতে জয় এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও র্যাংকিংয়ের তলানীতে থাকা আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে পাঁচটি ম্যাচ হেরেছে। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি মাশরাফি বাহিনী।
n সাকিবময় বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের আগেই বলেছিলেন, সেরা প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে যাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হতেই সাকিব যেন অক্ষরে অক্ষরে তা প্রমাণ করে দিলেন। বাংলাদেশের সবর্কালের সেরা এই ক্রিকেটারই ছিলেন বিশ্বকাপে টাইগারদের জন্য গৌরবের, স্বস্তির, আশার মশাল বয়ে বেড়ানোর বাহক। বাংলাদেশের বিশ্বকাপই ছিল সাকিবময়। তিন জয়ের সব কটিতেই ম্যাচ সেরা এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। দল সেমিতে না উঠলেও এবারের আসরের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। ব্যাটে-বলে অনন্য পারফরম্যান্স করেছেন। ৮ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করেছেন। বোলিংয়ে নিয়েছেন ১১ উইকেট। কিন্তু ২২ গজে সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থনটা পাননি। সাকিবকে সহযোগিতা করতে না পারায় শুক্রবার লর্ডসে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। সতীর্থদের ব্যর্থতার কারণে এমন ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সের পরও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ফিরতে হচ্ছে শেষ চারে খেলতে না পারার হতাশা নিয়ে।
n ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা
বিশ্বকাপ জুড়েই বাংলাদেশের ওপেনাররা ব্যর্থ হয়েছেন দলকে ভালো শুরু এনে দিতে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ তামিম ইকবালের ব্যাটিং হতাশা ছড়িয়েছে সবার মনে। শম্বুকগতির ব্যাটিং করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলকে চাপে ফেলেছে তার শ্রীহীন ব্যাটিং। ক্যাচ ফেলেও দলকে ভুগিয়েছেন তিনি। এক হাফ সেঞ্চুরিতে ২৩৫ রান করেছেন। সৌম্য সরকার করেছেন ১৬৬ রান। তাদের যুগলবন্দিতে সর্বোচ্চ ৬০ রান এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে।
n ক্যাচ মিস ও বাজে ফিল্ডিং
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে ফিল্ডিং দলের তালিকায় ওপরেই থাকবে বাংলাদেশ। গোটা টুর্নামেন্টে আটটি ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা, যার মধ্যে সাব্বির ও তামিমের ফেলা দুটি ক্যাচের বড় মাশুল গুনেছে বাংলাদেশ। তাদের বদন্যতায় জীবন পেয়ে ওয়ার্নার ও রোহিত শর্মা সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া মিস ফিল্ডিং ছিল নজিরবিহীন। বাউন্ডারি লাইনে বল আটকাতে পারেননি, দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল চলে যাওয়ার মতো শিশুতোষ অমার্জনীয় ভুলও দেখা গেছে অনেকবার। দৃষ্টিকটু ফিল্ডিং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
n নির্বিষ পেস বোলিং
ইংল্যান্ডের পেসাররাই ছিলেন বড় ভরসা। কিন্তু তাদের ব্যর্থতা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে প্রতি ম্যাচে। ইনিংসের শুরুতে উইকেট এনে দিতে পারেননি পেসাররা। বিশেষ করে অধিনায়ক মাশরাফি নতুন বলে নিষ্প্রভ থাকায় ভুগেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে মাত্র এক উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১৩ উইকেট পেলেও সাইফউদ্দিন প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি। বিশ্বকাপে ২০ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। শেষ দুই ম্যাচেই ৫ উইকেট করে পেয়েছেন। কিন্তু তার উইকেটগুলো ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অঙ্গসজ্জার বাইরে কিছু করতে পারেনি। মুস্তাফিজ ডেথ ওভারে উইকেট নিয়েছেন, ততক্ষণে বাংলাদেশের সর্বনাশ হয়ে গেছে।