নিয়ম পালটাতে বললেন পাকিস্তান কোচ!

 স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যাওয়ার হতাশায় পুড়ছে পাকিস্তান দল। আর আক্ষেপটা সম্ভবত কোচ মিকি আর্থারের একটু হলেও বেশি। কারণ, বাজে পারফরম্যান্সের কারণে দল দেশে ফেরার পর চাকরিও হারাতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ। কাগজে-কলমে এই বিশ্বকাপ শেষেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর ভেতরের খবর হলো—তাকে আর রাখতে চাইছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা। সেই হতাশা থেকেই কি না, অভিজ্ঞ এই কোচ মনে করেন আইসিসির বিশ্ব আসরের নিয়ম পালটানোটা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান ৯৪ রানের বড়ো ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান করেছিল পাকিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে মাত্র সাত রানের মধ্যে অলআউট করতে হতো বাংলাদেশকে। বলাইবাহুল্য যে, এই অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান। বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ১১। সমান ১১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের টপকে শেষ চারে চলে গেছে নিউজিল্যান্ড। কারণ নেট রান রেটে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলটির চেয়ে বড়ো ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কেন উইলিয়ামসনের দল। মিকি আর্থার ম্যাচ শেষে আইসিসির এই নিয়মের বিরোধিতা করলেন। তিনি মনে করেন, নেট রান রেটে নয়, বরং শেষ চারের স্থান নির্ধারণ হওয়া উচিত ছিল মুখোমুখি লড়াইয়ের বিবেচনায়। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে পাকিস্তান। সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া ইংল্যান্ডও হেরেছে পাকিস্তানের কাছে। ফলে, মিকি আর্থারের আক্ষেপটা একটু বেশিই।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে আমরা টুর্নামেন্টটা শেষ করতে চাচ্ছিলাম সেটা হয়নি। এটা অনেক যদি-কিন্তুর আসর হয়ে রইল আমাদের জন্য।  আমি আইসিসিকে বলব এই নিয়মটা পরিবর্তনের ব্যাপারে একটু ভেবে দেখার জন্য। নেট রান রেটের পরিবর্তে এখানে মুখোমুখি লড়াইটা মুখ্য হওয়া উচিত ছিল। এটা খুবই হতাশাজনক।’

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের প্রথমার্ধটা মোটেই মন মতো হয়নি পাকিস্তানের। প্রথম পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে তারা। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে বাজে ভাবে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। হেরেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। জয় এসেছে কেবল স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর একটা ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে।

আর্থার মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাত উইকেটের পরাজয়টাই তাদের ছিটকে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা আমাদের যাচ্ছেতাই কেটেছে। সেটা এতটাই যে, এরপর আর রান রেটটা ঠিক করে নেওয়ার কোনো উপায় আমাদের সামনেই ছিল না।’

আর্থার মনে করেন সেমিফাইনালে খেলার সকল যোগ্যতাই পাকিস্তানের ছিল। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে টুর্নামেন্টে শীর্ষ চার দলের দুটোকে (ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড) আমরা হারিয়েছি। এটাই প্রমাণ করে যে, দল হিসেবে আমরা কেমন।’

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয়ার্ধে এসে জ্বলে উঠে পাকিস্তান। শেষ চারটি ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে তারা। এই পারফরম্যান্সের জন্য অধিনায়ক সরফরাজকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি। বললেন, ‘আমি অবশ্যই বলব যে এখানে পুরো কৃতিত্বটা অধিনায়ক সরফরাজের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর ও ক্রিকেটারদের যেভাবে উজ্জীবিত করেছে সেটা বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বেই বিরল একটা ব্যাপার। ও ড্রেসিংরুমে অনুপ্রেরণার একটা নাম।’