প্রার্থী না থাকলে করবে কি বিএনপি

গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসাররা। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থীর সংখ্যা দুইশতাধিক। অর্ধ শতাধিক সাবেক সংসদ সদস্যও রয়েছেন। বিএনপি প্রায় সবগুলো আসনে ২ থেকে ৯ জন পর্যন্ত মনোনয়নের চিঠি দিয়েছিলো প্রার্থী সুরক্ষার জন্য। তারপরও কয়েকটি আসনে একাধিক আসনে শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী চারটি আসনে বিএনপির কোন প্রার্থীরই বৈধতা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। বগুড়া-৭, মানিকগঞ্জ-২,শেরপুর-১ এবং ঢাকা-১ আসনে এখন বিএনপির প্রার্থী শূন্য। বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর ও গাবতলী) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা দলের অপর দুই বিকল্প প্রার্থীকেও বাতিল করেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন ও সরকার বাদল স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এই দুইজন পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খানের মনোনয়নে বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরে মিল না থাকায় এবং একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। শেরপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩ জন। সবার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দুই জন।     তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া মানিকগঞ্জের অপর আসনগুলোতে মনোনয়নপত্রে বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরে মিল নেই একথা বলে মনোনয়নপত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোতে বিএনপি বা ২৩ দল কিংবা ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনে গতকাল চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন প্রার্থীদের তিনি চেনেন ও স্বাক্ষরটি জাল নয়।

এই পরিস্থিতিতে কী করবে বিএনপি তা নিয়ে দলের শীর্ষ তেরা বৈঠক করেছেন গতকাল রাতে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে,তারা তিন দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসের বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করবেন। আপীলে ইতিবাচক ফল না পেলে আদালতৈ যাবেন তারা।পাশাপাশি বিকল্প চিন্তাও আছে। শেষ পর্যন্ত যদি প্রার্থিতা টেকানো না যায় তাহলে শূন্য আসনে সমমনা ভালো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল­াহ বুলু গনমাধ্যমকে বলেন,সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। বাতিলকৃত প্রার্থীরা আপিল করবেন। যদি এতেও না হয় তবে বিকল্প চিন্তা করা হবে। আমরা দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,  শেষ পর্যন্ত আমরা সব রকম আইনগত চেস্টা চালিয়ে যাবে। কোন উপায় না থাকলে তখন স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে আমরা ভাববো। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, শূন্য আসনে যদি ঐক্যফ্রন্টের সমমনা ভালো লোক পাওয়া যায় তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে। আপিলের সময় রয়েছে, আসন শূন্য থাকার পরিস্থিতি এখনও আসে নাই।

এদিকে মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচনের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারের বিবেচনা সাপেক্ষে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও সেই প্রার্থীর সামনে নির্বাচনের সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনও যদি প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয়, তখন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবেন। আর হাইকোর্ট যদি তার আবেদন মঞ্জুর করেন তা হলে ওই প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

সালাউদ্দিন কাদের পরিবারের কেউ ভোটে নেই

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

একইসঙ্গে গিয়াস কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সামির চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। 

গিয়াস কাদের চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই। ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান উপজেলার তিনটি আসনে একসময় চৌধুরী পরিবারের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তিনটি আসনে এই পরিবারের সদস্যরাই অধিকাংশ সময় নির্বাচিত হয়েছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিন্তু এবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। ফলে এই নির্বাচনে প্রভাবশালী পরিবারটির কেউ ভোটের লড়াইয়ে থাকতে পারছেন না।

মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটানিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন গিয়াস কাদের চৌধুরী ও ছেলে সামির কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

জামায়াতের ১৪ আসনে বাতিল

সমঝোতা হওয়া ২৫ আসনের মধ্যে ২৪টি আসনে ধানের শীষে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের প্রার্থীরা। ধানের শীষ চাওয়া এই ২৪টি আসনের একটিতে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করা ২২টি আসনের প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আয়কর দাখিল না করার অভিযোগে দিনাজপুর-১ আসনের জোটের প্রার্থী মো. আবু হানিফের মনোয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।