একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এবার বেশকয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা। কারাদণ্ডাদেশ, ঋণখেলাপি, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকাসহ নানা কারণে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ৬৪ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসাররা এসব মনোনয়ন বাতিল করেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার কথা উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টি-জাপার মহাসচিব (জাপা) এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিতে সদ্য যোগদান করা সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুত্ বিল বকেয়া থাকায় বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থী চিত্রনায়ক সোহেল রানার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপির কারণে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) এবং টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
ঢাকা-২ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা-৩ আসনে গণফোরামের মোস্তফা মহসীন মন্টুর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। ঢাকা-৭ আসনে সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনার মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। একই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) এর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সেলিম ভূঁইয়া ঋণখেলাপি। ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলার কারণে ওই দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৭ আসনে ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৫৪ হাজার টাকা টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল হয়। এই আসনে জাসদের (ইনু) আবুল কাশেমের মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির সামির কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে গণফোরামের প্রার্থী অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপির কথা উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। এ ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।
মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী রিটার্নিং দাখিল না করায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নাটোর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দুটি মামলায় তাঁর দণ্ডাদেশ থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি আব্দুল ওহাবের মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে। ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মশিউর রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে শহীদুজ্জামান বেল্টু (স্থগিত), খুলনা-৬ আসনে এসএম শফিকুল ইসলাম মনার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ভোলা-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনে সাবেক এমপি মঈনুল ইসলাম, জামালপুর-১ আসনে সাবেক এমপি রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গণজাগরন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়ে যায়। তথ্যগত ভুল থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে সারা দেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর।