সিসিকে ‘ভৌতিক ট্যাক্স’ বৃদ্ধি!

সিলেট সিটি করপোরেশন নতুন অ্যাসেসমেন্টের উপর ভিত্তি করে নগরবাসীর উপর ‘ভৌতিক’ হোল্ডিং ট্যাক্স বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ট্যাক্স চাপানোর খবর শুনে সিলেট নগরীর স্থায়ী বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত তিন দিন থেকে নগরীর আলোচনায় স্থান পেয়েছে এই ‘ভৌতিক’ হোল্ডিং ট্যাক্স। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতকরা ৫ হাজার শতাংশ বাড়ানো হয়েছে ট্যাক্স। হাজার হাজার ভুক্তভোগী প্রতিদিন ট্যাক্সের কাগজ নিয়ে সিটি করপোরেশন অফিসে জমা হচ্ছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে নগরবাসীর পক্ষ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।  প্রয়োজনে তারা মামলা এবং গণআন্দোলনে যাবেন।

এদিকে বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানরা সমাবেশ করে ‘ভৌতিক’ ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান বিষয়টি মানবিকভাবে দেখবেন।

২১ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী পিন্টু চন্দ্র (৩৫) একটি সেলুনে কাজ করেন। তিনি বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স দিতেন ১ হাজার ২০০ টাকা । নতুন অ্যাসেসমেন্টে এটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৪ হাজার টাকা অথাত্ শতকরা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভাগ ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। টিনের ঘরে বসবাস করি। বছরে এতো টাকা কীভাবে পরিশোধ করব? ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী সংবাদকর্মী আফরোজ খানের বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ৩ হাজার ৮৬ টাকা। নতুন অ্যাসেসমেন্টে এটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকা । শতকরা হারে প্রায় ৫ হাজার ভাগ। তিনি  বলেন, অ্যাসেসমেন্টের লোকজনের সম্ভবত তখন ‘চেতনা’ ছিলেন না।

‘সুজন’ সভাপতি ফারক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে এমন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে নগরবাসীর সঙ্গে সিসিক মতবিনিময় করে শতকরা কতভাগ ট্যাক্স বাড়াবে তা নির্ধারণ করতে পারত। তিনি বলেন, সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি, বর্তমান হোল্ডিং ট্যাক্সের কার্যক্রম স্থগিত করে একটি সার্বজনিন সভা করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করা হোক। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, এমন অস্বাভাবিক হোল্ডিং ট্যাক্স মেনে নেওয়া যায় না। 

সাবেক মেয়রের সংবাদ সম্মেলন: এদিকে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী তার বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, বিষয়টি নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ভিতর ঘাপটি মারা আমলারা এই অস্থিরতা তৈরি করেছেন। আমার সময় ট্যাক্স ধার্য করে রিভিউ করেছিলাম। যখন দেখলাম এটা মানুষের জন্য চাপ হয়ে যায়, তখন এটি স্থগিত করা হয়।