আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান আগামী ২১ জুলাই থেকে আবারো শুরু হচ্ছে। আরো দুই কোটি নতুন সদস্যের টার্গেট নিয়ে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে এ অভিযান চলবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘তারুণ্যের শক্তি- বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ নীতির আলোকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শভিত্তিক আগামী প্রজন্ম গঠন এবং সমৃদ্ধ-বাংলাদেশ বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে তরুণ সমাজকে উন্নয়নমুখী কল্যাণকর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও তরুণ দেশকর্মী গড়ে তুলতে সাংগঠনিক এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে বহু নতুন মুখ আওয়ামী লীগের মিছিলে যোগ দিয়েছে, নৌকার সমর্থন করেছে এবং নৌকার প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। এই নতুন মুখদের দলের সদস্য হিসেবে নিতে চাই, যদি তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, তাদের আদর্শগত সমস্যা না হয়- এগুলো দেখেশুনে সদস্য সংগ্রহ শুরু করবো। স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, অন্য দল থেকে ভাড়া করে নয়, মেধাবি তরুণদেরই সদস্য করা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করেছে কিন্তু কোন রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এমন তরুনদেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিন প্রজন্মের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির দোসররা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবেন না। সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করতে তৃণমূলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনেক নবীন এবার নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে। এর মধ্যে ক্লিন চরিত্রের যারা আছে, আমরা তাদের নতুন সদস্য করবো। যাকে সদস্য করা হবে তার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা, ক্রিমিনাল রের্কড আছে কিনা, কোনও সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কিনা, সেই বিষয়গুলো দেখা হবে। এছাড়া বাবা-মা এমনকি একেবারে নিকটাত্মীয়দের বিষয়টাও দেখা হবে।’ নতুন সদস্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি যারা আগে আছেন, তাদের নবায়ন করতে হবে। দলের সভানেত্রীর নির্দেশক্রমে জেলা ও উপজেলা নেতাদের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন বই সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথমবারের মতো যারা ভোটার হয়েছেন ও হবেন এবং নারী ভোটারদের সদস্য করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগে। এর মধ্যে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় কারাবন্দি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য ২৫ লাখ গণস্বাক্ষরকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতেই ২৫ লাখ নতুন সদস্য টার্গেট করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, দুই কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ে। সারা দেশের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার কোথাও কোথাও কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সদস্যপদ নবায়ন করা হয়। আবার কোনো কোনো জেলায় শুরুই হয়নি। কর্মসূচি বেশি দূর না এগোনোর জন্য কেন্দ্রীয় নেতা, বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদকদের উদ্যোগ না থাকা এবং দুর্বল তদারকিকে দায়ী করেন তৃণমূল নেতারা। দীর্ঘ সাত বছর বিরতি দিয়ে ২০১৭ সালের ২০ মে গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগঠনের সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সদস্য পদ নবায়ন করেন এবং দুজন নতুন সদস্যপদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জেলা নেতাদের হাতে নতুন সদস্য সংগ্রহের ফরম বুঝিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুই হয়নি। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে, নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর দলের সদস্যপদ নবায়ন করতে হয়। আর নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানও সময় সময় করা হয়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৫নং অনুচ্ছেদে তিন বছর পরপর একেবারে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যন্ত পুরনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন করার বিষয়ে বলা হয়েছে। ৫ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্বাস করে নির্ধারিত ফরমে প্রদত্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে ত্রিবার্ষিক ২০ টাকা চাঁদা প্রদান করে ১৮ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারী-পুরুষ সদস্য হতে পারবে। তবে উপধারায় কারা সদস্য হতে পারবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী, নাগরিকত্ব পরিত্যাগকারী বা বাতিলকৃত ব্যক্তি নয়; অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়; ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা পেশায় বৈষম্যে বিশ্বাস করে না; আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কোনো সংগঠনের সদস্য নয়- তারা সদস্য হতে পারবেন। এই ধারায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকা ও নিয়মিত চাঁদা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।