আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গতকাল রবিবার যাচাই-বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে বিভিন্ন অভিযোগে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর।
ঢাকা-১ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক ও ফাহিমা হোসাইন জুবলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া জাকের পার্টির মো. সামসুদ্দিন আহম্মেদ, জাসদের আইয়ুব খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মারুফ খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সৈয়দ মইনুদ্দিন রিপন ও কমিউনিস্ট পার্টির সুকান্ত শফি চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-৩ আসনে গণফোরামের মোস্তফা মহসীন মন্টু, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান আহমেদ খান, জাতীয় পার্টির মো. মনির হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-৭ আসনে ১৯ জনের মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন বিএনপি প্রার্থী নাসিমা আক্তার কল্পনা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোতালেব ও মাসুদুর রহমান খোকন, আওয়ামী লীগের মো. নাজমুল হক।
ঢাকা-৮ আসনে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মাহমুদা রহমান মুন্নী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, জগদীশ বড়ুয়া (দলের নাম জানা যায়নি), জাতীয় পার্টির আরিফুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাদুল হাসান ও রহমত উল্লাহ।
ঢাকা-৯ আসনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-১০ আসনে দশজন প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণ খেলাপির অভিযোগে গণফোরামের প্রার্থী খন্দকার ফরিদুর আকবরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি রশিদ দেখাতে পারলে মনোনয়নপত্র বহাল হবে।
ঢাকা-১১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-১২ ও ১৩ আসনে সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ঢাকা-১৪ আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের শাহাজাদা সাইফুদ্দিন, জামানত না দেয়ায় আজমীরা সুলতানা, ঋণ খেলাপি হওয়ায় জাকের পার্টির কায়সার হামিদ ও জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৬ জন প্রার্থী। তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঋণ খেলাপির অভিযোগে মো. মুকুল আমিন (জাপা) এবং মনোনয়নপত্রে ভোটারদের ভুয়া স্বাক্ষরের কারণে মো. সলিমুদ্দিন (স্বতন্ত্র) ও আব্দুর রহিম -এর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-১৬ আসনে দশজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে ঋণ খেলাপির অভিযোগে গণফোরামের খন্দকার ফরিদুল আকবর, বিএনপির এ কে মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় পার্টির আমানত হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইল হোসেনের (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা-১৭ আসনে ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের স্থগিত ও ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়া প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আকবর হোসেন পাঠান (চিত্রনায়ক ফারুক) ও জেএসডির নজরুল ইসলাম। এছাড়া মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা (মনোনয়ন ফরমে নিজ দলের নাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনটিই উল্লেখ নাই), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসির (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর), বিকল্প ধারার আরিফুল হক (ঋণ খেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনামুল হক (ঋণ খেলাপি), বিএনপির শওকত আজিজ (ঋণ খেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী লেলিন চৌধুরী, মেজর (অব.) মামুনুর রশীদ (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর), আনিসুজ্জামান খোকন, মো. আব্দুর রহিম, (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর) ও শামসুল হুদা চৌধুরীর (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।