সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছর (২০১৭-১৮) রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ১৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অবশ্য সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। জুনে রেমিট্যান্স ১ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের জুনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৩৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বাড়লেও তা এর আগের অর্থবছরের চাইতে কম হারে বেড়েছে। গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসাবে গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মে মাসে। মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে রেমিট্যান্স আকারে এসেছিল।
অবশ্য ব্যাংকিং চ্যানেলে বা বৈধপথে আসা অর্থই রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হয়। এর বাইরে প্রবাসী আয়ের একটি বড়ো অংশই অবৈধ উপায়ে দেশে আসছে, যা অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও হিসাবের মধ্যে যুক্ত হচ্ছে না। এসব অর্থকে বৈধ পথে আনতে উত্সাহিত করতে সরকার বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। অর্থাত্ কেউ ১ লাখ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠালে সরকার আরো দুই হাজার টাকা দেবে। বাজেটে প্রণোদনা হিসেবে চলতি অর্থবছর প্রবাসীদের জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বাজেটে রেমিট্যান্সের জন্য এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এর ফলে প্রবাসীরা হুন্ডি কিংবা অবৈধ ব্যবস্থার বদলে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাবে।