গত পঞ্জিকা বছর (২০১৮ সাল) আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে নিবন্ধিত ৪১টি দলের মধ্যে ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দলগুলোকে চলতি মাসের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে হবে। সম্প্রতি হিসাব জমা দিতে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।
ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪১টি হলেও দুটি দল একেবারে নতুন। আদালতের আদেশে চলতি বছরেই নিবন্ধন পেয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। ফলে বিগত বছরের হিসাব নতুন দুটি দলকে দেওয়া লাগবে না। আরপিও অনুযায়ী, পরপর তিন বছর কোনো দল হিসাব জমা না দিলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্টদের মতে, বেশকিছু রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয় না। ২০১৮ সালে সাতটি দল ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন করলে ইসি তা মঞ্জুর করে। দলগুলো হলো- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-জাপা, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, গণতন্ত্রী পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে দেখিয়েছিল ২০১৭ সালে তাদের ৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ১১৭ টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। ২০১৭ সালে দলটি আয় করেছে ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা। আর ব্যয় করেছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। অন্যদিকে বিএনপি ২০১৮ সালে আগের বছরের অর্থাত্ ২০১৭ সালের হিসাবে দেখিয়েছে মোট আয় ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা। আর মোট ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা। দলটির ৫ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা হাতে বা ব্যাংকে রয়েছে।