মিয়ানমারের রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নািস বাহিনীর দখলকৃত ইউরোপের বন্দিশিবিরের সঙ্গে তুলনা করেছেন জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের তদন্ত দলের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, এই তুলনার মাধ্যমে বোঝা যায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বসবাসের পরিস্থিতি কতটা কঠিন।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নৃশংসতা থেকে বাঁচতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করে। এই মিশনের অন্যতম সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেন, রাখাইনের মধ্যাঞ্চলে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এক লাখ ২৮ হাজার মানুষের বসতিগুলো যেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই শহুরে বস্তিগুলো নািসদের দখলে থাকা ইউরোপে বসবাস করা ইহুদিদের মতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে নিজেদের দখলকৃত এলাকায় বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন করে জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের নািস পার্টি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প নামে পরিচিত এসব বসতিগুলোতে ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে নািস বাহিনীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় সিদোতি আরো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। ২০১২ সালের আগে রাখাইনে ২০ থেকে ৩০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করলেও এখন সেখানে বসবাসকারীদের সংখ্যা মাত্র চার থেকে পাঁচ লাখ। তার মতে, গণ বাস্তুচ্যুতি ও গোলাগুলি বন্ধ হতে পারে, সেনাদের লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে, তবে সংকট শেষ হয়নি।
এদিকে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী দক্ষিণ রাখাইনের কিয়াউকপাইয়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন পরিচালনা করছে। স্থানীয় গ্রামের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দানিয়াওয়াডি আঞ্চলিক নৌ কমান্ড ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য আশপাশের গ্রামের লোকদের ধান চাষ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।