‘অপাত্রে ঋণ যাওয়ায় বাড়ছে খেলাপি ঋণ’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, প্রকৃত তথ্যের অভাবে অপাত্রে ঋণ যাচ্ছে। যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন তারাই ঋণ পাচ্ছেন। ফলে ঋণখেলাপি বাড়ছে। এটি এখন ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সমৃদ্ধ গবেষণা গ্রন্থ ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক ২০১৭’ এর  মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় খেলাপি ঋণের বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, খেলাপির ঋণের যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, তা প্রকৃত চিত্র নয়। এতে ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ পুনর্গঠন ও অবলোপন সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে প্রকৃত ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ হচ্ছে না। এটি যোগ করলে নন পারফরমিং লোন আরো বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের  সভাপতিত্বে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। ৪০টি ব্যাংক কোনো না কোনোভাবে তারল্য সংকটে ভুগছে। আর বিনিয়োগে প্রধান বাধা ঋণের উচ্চ সুদহার।

অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্ববিরোধী পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে। একদিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, তারল্য সংকট চলছে, ঋণের সুদহারও উচ্চ। অন্যদিকে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বাড়ছে। এটি কোনোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। ব্যাংকিং খাতে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ আমানত সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে; কিন্তু ঋণ বণ্টনের সময় সুবিধা পাচ্ছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। এই বৈষম্য কমাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাতের ৭০ শতাংশ ঋণ দীর্ঘমেয়াদি; কিন্তু বেশিরভাগ আমানত স্বল্পমেয়াদি। এ চক্কর থেকে বের হতে না পারলে এ খাতকে স্থিতিশীল করা কঠিন। কারণ আমাদের বিকল্প শক্তিশালী কোনো বন্ড মার্কেট নেই।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, সাপ্তাহিক শিক্ষা বিচিত্রার সম্পাদক আবদার রহমান ও নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।