সরকারের ইচ্ছায় আটকে আছে খালেদা জয়ার জামিন :ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। একই ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা ও অনুসারীরা জামিনে রয়েছেন। কিন্তু আমাদের নেত্রী আছেন জেলে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। এই সরকার ইচ্ছে করেই খালেদা জিয়ার জামিন আটকে রেখেছে। সরকার জামিনে হস্তক্ষেপ করছে।

ফখরুল বলেন, আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, একই ধরনের মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল ১/১১-এর সময়ে। সেই ১৫টা মামলা তারা খারিজ করে দিয়েছে, বাতিল করে দিয়েছে। অথচ খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে তার বিরুদ্ধে উল্টো নতুন করে আরো মামলা যোগ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলসহ সকল নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আমাদের অবশ্যই গণঐক্য তৈরি করতে হবে। আর সমস্ত রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা গণজোয়ারের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজয় মানতে বাধ্য করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার একে একে সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার যা নির্দেশ দেয় আদালতও সেই বিচারই করে। ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মামলার যে রায় হয়েছে কয়দিন আগে, আমরা সেই রায়ে হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। দেশে এখন ন্যায়বিচার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থনের ব্যাখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, আজকের (রবিবার) হরতালকে আমরা সমর্থন করব। কারণ এটা জনগণের দাবি। জনগণের সমস্ত দাবিকে আমরা সমর্থন করব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ।