সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষিত বেকার তরুণদের কাছে কর্মের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুতে যাদের নিজের কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য ছিল না, তারাই এখন প্রত্যন্ত গ্রামে বসে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করেন। যাদের স্বনির্ভরতা দেখে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন বেকার তরুণেরাও।
জানা যায়, রসায়নে স্নাতক করা সগুনা ইউনিয়নের বিল কুশাবাড়ী গ্রামের মানিক হোসেন গ্রামীণ তরুণদের কাছে ফ্রিল্যান্সার আইকন। তিনি বেকারদের হাত ধরে ধরে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় নিয়ে এসেছেন। কঠোর পরিশ্রম ও নিজের অর্জিত ফ্রিল্যান্সিং জ্ঞান দিয়ে এক এক জনকে গড়েছেন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। ফ্রিল্যান্সিং এখন তাদের মাসিক আয় দেড় থেকে শুরু করে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। মানিক হোসেনের হাত ধরেই ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসা ঐ ইউনিয়নের সৈকত জামান শান্ত, সৌরভ হোসাইন, সাগর হাসান, মাফফিজুর রহমন শাকিল, বিপ্লব হাসান, রাজু হাসান, তাড়াশ পৌর এলাকার হাসিনুর রহমান ও তালম ইউনিয়নের মোক্তার হোসেন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
মানিক হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, শুরু করেছিলাম শূন্য হাতে। কিন্তু বিশ্বাস ছিল একদিন সফল হব। ২০১০ সালে ফ্রিল্যান্সিং শেখার তেমন সুযোগ ছিল না। ঢাকায় মিরপুরের বাঙলা কলেজে পড়ার সুবাদে মেসে থাকতেন। সেই মেসের একজন ফ্রিল্যান্সারের কাছে ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু। দিন-রাত পরিশ্রম করে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের বেশ কিছু বিষয় আয়ত্ত করেন। পরে ধারদেনা করে ২০ হাজার টাকায় কেনা একটি পুরোনো ল্যাপটপ দিয়ে শুরু হয় তার ফ্রিল্যান্সিং।
তিনি বলেন, মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেন ফ্রিল্যান্সাররা। ইউটিউব মার্কেটিং, ইউটিউব ভিডিও এসইও, ইউটিউব ভিডিও এডিটিং, ভিডিও অ্যাড, ফেসবুক মার্কেটিং, ফেসবুক অ্যাড, ওয়েব এসইও ইত্যকার। এমনকি ক্রিপ্টো ও এনএফটি নিয়ে ব্যবসা করা যুক্তরাজ্যের একটি বড় কোম্পানি ‘বেনজিংগা’র একটি টুল মার্কেটিং করে দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া অঙ্ক সম্পর্কিত ইউটিউব চ্যানেল ‘ব্রিয়ান ম্যাকলগান এলটিডি’ চ্যানেলের এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার অর্জনের পেছনেও অসামান্য অবদান রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পাওয়ার ওয়াশ কোম্পানির প্রডাক্ট প্রমোশনেও রয়েছে তার অবদান। এসব কাজে এখন পর্যন্ত তার আয়ের পরিমাণ ২ কোটি টাকারও বেশি। এক মাসে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকাও আয় করেছেন তিনি। মাসের গড় হিসাবে আয় পাঁচ লক্ষাধিক টাকারও বেশি থাকে। মূলত আপওয়ার্কে পাওয়া কাজ থেকেই তার বেশি আয় থাকে।
জানা গেছে, মানিক হোসেনের প্রথম কাজ পেতে দীর্ঘ দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০১২ সালে ওডেস্কে (এখন নাম পরিবর্তন করে আপওয়ার্ক হয়েছে) অ্যাকাউন্ট খোলেন। তার ১৩ ডলারের প্রথম কাজটি ছিল এক বাংলাদেশি ক্লায়েন্টের। কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ঐ ক্লায়েন্ট তাকে ফাইভ স্টার রিভিউ দেন। কিন্তু মানিক হোসেন যাদের ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়েছেন তাদের সাফল্যের জন্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এক সময়ের বেকার তরুণেরা মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেন ফ্রিল্যান্স করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা বলেন, বিশ্ব জুড়ে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশা। তরুণেরা এ কাজের মাধ্যমে নিজেদের স্বনির্ভর করে তুলতে পারেন। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ফ্রিল্যান্সাররা স্মার্ট বাংলাদেশের গর্ব। তারা কর্মক্ষেত্রে প্রত্যন্ত গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে।