বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। দেশটির বিপক্ষে টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে এমন হার টাইগারদের জন্য বড় লজ্জার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এই হতাশার মধ্যেও আশা ধরে রাখছেন। তার মতে, সিরিজ হার হতাশার হলেও তার প্রভাব বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে পড়বে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এটা স্রেফ একটা সিরিজ হলো, এটা দেখে বিশ্বকাপের মিশন না ভাবার কথা বলেছেন তিনি।
গতকাল মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘বিশ্বকাপের মিশন তো শুরুই হয়নি। এটা একটা সিরিজ আমরা খেলছি। বিশ্বকাপের আলোকে আমরা দলটা ঘোষণা করেছি। সেই সময়ে বিস্তর চিন্তা-ভাবনা করেই আমরা দলটাকে দিয়েছি যে, কার বিকল্প কে হতে পারে। কীভাবে হলে কোচ সমন্বয় করতে পারে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সব বিষয়ে চিন্তা করেই আমরা দল দিয়েছি। এটা দুঃখজনক যে, কাঙ্ক্ষিত ফলে হয়তো সবাই নেই এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও আমরা করতে পারছি না। আমরা যে সিরিজটা খেলছি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, হতাশজনকই বলব।’
যুক্তরাষ্ট্রের সিরিজ নিয়ে গাজী লিপু বলেন, ‘দুটো ম্যাচেই আমরা জয়ের অবস্থানে ছিলাম। সেখান থেকে আমরা জয়টা করায়ত্ত করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ের কারণে পিছিয়ে গেছি। শেষ মুহূর্তে ওভারপ্রতি ১৫ রান করে লাগত। সেখানে অন্যতম সেরা বোলাররাই ছিল- মুস্তাফিজ, শরিফুল। শেষ মুহূর্তে টি-টোয়েন্টিতে একটা টুইস্ট বলে সেটা আমরা পারিনি। ঠিক একইভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে যখন আমরা রান তাড়া করছিলাম, শান্ত ও হূদয় ব্যাট করছিল, মনে হচ্ছিল জয় তুলে নেওয়া সময়ের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে দেখা গেল ৩ বল বাকি থাকতেই পরাজিত হলাম। এটা নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তার কারণ, হতাশার কারণ। প্রথম ম্যাচে না শুধু, দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা গেল আমাদের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা কিছু করতে পারেনি। সুতরাং দলগতভাবে উন্নতি করতে হবে।’
বিশ্বকাপ নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আর যেহেতু আমরা আগে গিয়েছি যুক্তরাষ্ট্রে সেহেতু আমরা আশা করতে পারি যে, আমরা ভুল-ত্রুটি থেকে শিখব। অন্যের ভুল থেকে শিখলে সেটা ব্যয়বহুল হয় না। কিন্তু নিজের ভুল থেকে শিখতে হলে অনেক মূল্য দিতে হয়। তারপরও যেহেতু বিশ্বকাপ আমাদের মূল লক্ষ্য, সেই বিশ্বকাপে যেন আমরা ভালো করতে পারি, সেই আশাই করছি। যে দলকে নির্বাচন করেছি তাদের ওপরেই আস্থা রাখছি। টাইাগার্সদের অনুশীলন শুরু হবে। সেখানে আমরা আলাদা করে সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য কয়েক জনকে প্রস্তুত করে রাখব। যদি কোনো সংকট তৈরি হয় তাহলে যে কোনো জায়গায় আমরা পরিবর্তন করতে পারি।’