ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ও সুস্থতার জন্য খেলাধুলা করতে হবে, ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়া সাইক্লিং অতি উত্তম শরীর চর্চা। মাসে দুই দিন সাইকেল চালানোর জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় রাস্তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
শনিবার (৮ জুন) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে গুলশান-২ গোলচতত্ত্বর পর্যন্ত সাইকেল র্যালি পেডাল ফর প্ল্যানেট এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নানাভাবে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন যানবাহনের কারণে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। কিন্তু সাইকেল এমন একটি পরিবেশবান্ধব যান যেটি কোনো কার্বন নিঃসরণ করে না। তাই সাইকেল চালানোকে উৎসাহিত করছি।
মেয়র বলেন, আমরা সাইকেল লেন করে দেব। যদিও সাইকেল লেন করে দিলেও দেখা যায় দখলদাররা সেখানে দখল করে ফেলে। স্বেচ্ছাসেবক ও যুবসমাজকে নিয়ে এ ধরনের দখলদারদের প্রতিহত করব। পার্ক ও মাঠগুলো আমাদের রক্ষা করতে হবে। ফার্মগেটের আনোয়ারা পার্কে শপিং মল করতে দেওয়া হবে না। সেখানে পার্কই থাকবে। মানুষ এ পার্কে হাঁটবে, শরীর চর্চা করবে।
এসময় জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক করভি রাখসান্দ বলেন, এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক যে আজ এত মানুষ একটি উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আমাদের পৃথিবী রক্ষা করতে কাজ করা আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সাইকেল চালান, গাছ লাগান, রিসাইকেল করুন- আমরাই পারবো একত্রে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে।”
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগো ফাউন্ডেশন এবং ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এ র্যালি আয়োজন করে। র্যালিটির লক্ষ্য ছিল কার্বন নির্গমন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবন থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বিজয় সরণি, মহাখালী ও বনানী হয়ে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। ৩৫০ জন সাইক্লিস্ট এতে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারী সাইক্লিস্টদের উৎসাহ দিতে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম নিজে র্যালিতে অংশ নেন। তিনিও সাইকেল চালিয়ে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে গুলশান-২ গোলচত্বর পর্যন্ত যান।