সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে জাল দলিলের মাধ্যমে মালিক সেজে মো. ইকবাল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি ৪৪ শতাংশ জমি ১০ জনের কাছে বিক্রি করেছেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। জমির মূল মালিক আদালতে মামলা দায়ের করলে ইকবাল মোল্লাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। এ খবর জানাজানি হলে ঐ জমির ক্রেতাদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি মৌজাস্থিত সিএস ও এসএ ২১৪৫ ও আরএস ৫০৮৮ নং দাগের ৪৮ শতাংশ জমির মালিক সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে জজ মিয়াগং। গত ফেব্রুয়ারিতে জমির খাজনা পরিশোধ করতে গোদনাইল ভূমি অফিসে গেলে তিনি জানতে পারেন, ঘোষণা দলিল মূলে ইকবাল মোল্লাগং নিজ নামে জমির নামজারি করেছে। এ ঘটনার পর জমির মালিক জজ মিয়া নারায়ণগঞ্জ সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইকবাল গংরা জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ঘোষণাপত্র ও নামজারির জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি করে দিয়েছে।
এরপর ইকবাল হোসেন মোল্লাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ‘ক’ অঞ্চল আদালতে সিআর মামলা (নং-৭২২/২০১৯) দায়ের করেন জজ মিয়া। মামলাটি আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, আসামিগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে পারস্পরিক সহায়তা ও যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র সৃজন করে অপরাধ সংঘটিত করেছে। তদন্তের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ২৩ জুন ইকবাল মোল্লাকে গ্রেফতার করে।
জজ মিয়া জানান, এ জালিয়াত চক্র বহু মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ইকবাল মোল্লা গংরা গত কয়েক বছরে ৪৪ শতাংশ জমি সাগর, ইব্রাহীম, বিল্লাল, রুহুল আমিন, মো. শাহিন, পারুল, আলেয়া, রনি দেওয়ান, টিটু, আলম ভুঁইয়াসহ ১০ জনের কাছে বিক্রি করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
জমির ক্রেতা রুহুল আমিন জানান, উক্ত জমির নামজারিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক মনে হওয়ায় সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসাবে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে জালিয়াতির খবরে তারা চরম হতাশায় ভুগছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক রনজিত কৃষ্ণ মজুমদার ইত্তেফাককে জানান, তদন্তে জমির কাগজপত্র ও ভোটার আইডি কার্ড জাল প্রমাণিত হয়েছে। জালিয়াতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।