তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনায় বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের মধ্যেই ভারত সরকার এই প্রকল্পে তাদের যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করে। এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন প্রস্তাব ঝুলে আছে।
নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে ভারতীয় একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।
বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদীটির উৎপত্তি ভারতের সিকিম রাজ্যে। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।গত বছরের ডিসেম্বরে তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে আসে। সেইসময় ঢাকায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রকল্পে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি সম্পদের যৌথ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, তিস্তার পানি পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি অনুসন্ধান করার জন্য একটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে এবং শিগগির দলটি বাংলাদেশে যাবে।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের এই ঘোষণাকে বাংলাদেশের ওপর চীনের চাপ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বেইজিং আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়সহ একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততা শেখ হাসিনাকে বেইজিংয়ের চাপ সামলাতে সাহায্য করবে।
তিস্তা নদী প্রকল্পের ভারতের যে অঙ্গীকার তা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এটি শুধু বাংলাদেশের সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে না বরং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষার কাজও করবে।
ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস থেকে অনুদূত