কুমিল্লার তিতাসে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগেই গত আট বছরের ধারাবাহিকতার ছেদ ঘটিয়ে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ, নতুন এই পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে তাদের পাড়ি দিতে হবে প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক। এতে পরিশ্রান্ত হওয়া ছাড়াও সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, তিতাসে এবার গাজীপুর খান সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে থেকে ৩৩৫ জন, মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ সরকারি কলেজ থেকে ২৭৫ জন ও ইঞ্জিনিয়ার হারুন-উর-রশিদ গার্লস কলেজ থেকে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও গাজীপুর আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৭৩ জন, মঙ্গলকান্দি কামিল মাদ্রাসা থেকে ২৫ জন ও জিয়ারকান্দি হাফিজ উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জানা গেছে, গত আট বছর ধরে উপজেলার মাঝামাঝি স্থানে মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনে পৃথক দুটি ভবনে তিনটি কলেজের শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে সবারই যাতায়াতে সুবিধা হয়। অথচ রহস্যজনকভাবে এবার সেখানে পরীক্ষার কেন্দ্রই রাখা হয়নি। সে ক্ষেত্রে মীম কলেজের শিক্ষার্থীদের ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে, আর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একই পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে মীম কলেজে।
গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহমেদ বিন রায়হান ও কালাম বিন রিফাত বলেন, “আমরা জানতাম প্রতিবারের মতোই আমাদের কেন্দ্র পড়বে মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিন দিন আগে জানতে পেরেছি আমার কেন্দ্র পড়েছে মীম কলেজে। এটি উপজেলার শেষপ্রান্তে। আমাদের বাড়ি উজিরাকান্দি। প্রতি পরীক্ষার দিন ঐ কেন্দ্রে যেতে আমাদের চারটি গাড়ি পরিবর্তন করতে হবে। দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি নিয়ে পরীক্ষায় ভালো করা কঠিন।” অন্যদিকে, ভাটিপাড়া গ্রামের অভিভাবক মফিজউদ্দিন বলেন, পরীক্ষার কয়েক দিন আগে কেন্দ্র পরিবর্তন হওয়ায় খুবই সমস্যায় পড়েছি। ১০ দিনের পরীক্ষার জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সিএনজি রিজার্ভ করেছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার সারজিনা আক্তার বলেন, গত সোমবার বিকাল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে পরীক্ষাসংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনে এবার কেন্দ্র থাকছে না, তাই গাজীপুর কলেজ ও মীম কলেজে পালটাপালটি করে কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, নীতিমালা মেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।