আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে বড় গলায় বিশাল স্বপ্ন বুনে প্রত্যাশার কথার বললেও প্রতিবারই ব্যাগ ভর্তি হতাশা নিয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসে দল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার তুলনামূলক সমালোচনা বেশি হচ্ছে, কেননা গোটা আসর জুড়েই নিষ্প্রাণ ছিল দলের ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট।
এর মধ্যে সুপার এইটের সব শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণে দলের ব্যাটাররা যেভাবে গুটিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষ অবধি ম্যাচ হেরেছে মূলত তাতেই বেশি সমালোচনা হচ্ছে দল, সমর্থকরাও হতাশ হয়েছে। তবে এসব ভাবছে না বিসিবি। দল সুপার এইটে উঠেছে তাতেই তারা খুশি। কেননা বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে এটাই ছিল দলের লক্ষ্য। আর দল নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে এটা নিয়েই তারা সন্তুষ্ট! গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটি জানিয়েছেন বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
যেখানে দেশের গোটা ক্রিকেট সমর্থকরা হতাশ হয়েছে দলের সুপার এইটের পারফরম্যান্স দেখে। বিশ্বকাপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের অর্জনের বিষয়ে সন্তুষ্টির কথা বলতে গিয়ে বিসিবির এ পরিচালক বলেন, 'বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে দলের একটা লক্ষ্য ছিল, প্রথমে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করা। সুপার এইটে যাওয়া। তো আমরা সেই দিক দিয়ে সুপার এইটে যেতে পেরেছি, অবশ্যই এটি ইতিবাচক এবং লক্ষ্যটা পৌঁছাতে পেরেছে। তো এটাকে (পারফরম্যান্স) যদি দুই ভাগে ভাগ করি, তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি তাই আমরা সবাই খুশি।'
তিনি আরো বলেন 'এরপর যা ছিল ওভারঅল পারফরম্যান্স। যদি আপনি ব্যাটিং আর বোলিং বলেন, আমরা ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারিনি। পুরো টুর্নামেন্টেই আমরা ভালো ব্যাট করিনি। প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচের চারটিতেই কিন্তু আমরা জিততে পারতাম অপরাজিত থাকতে পারতাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে খুব ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। এছাড়া পারফরম্যান্স ভালো ছিল নেপালের সঙ্গে ক্লোজ হয়েছে খেলা। কম স্কোরে খেলা হয়েছে, উইকেটেরও অবস্থা সেখানে ভালো ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউ ইয়র্কে যেটাতে খেলেছি সেখানের উইকেটও ভালো ছিল না। এজন্যই লো স্কোর হয়েছে। কয়েকটা ম্যাচ ছাড়া কিন্তু খুব বেশি একটা বড় স্কোরের ম্যাচ হয়নি। তো এটাই কারণ, কয়েক জন ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি। কিন্তু আমরা বলব, টপ অর্ডারে নিয়মিতি ধস নেমেছে বলে আমরা ব্যাটিং ভালো করতে পারিনি।' এসময় টুর্নামেন্টে প্রাপ্তি নিয়ে বলেন, 'যদি আরো প্রাপ্তির কথা বলেন, তাহলে আমাদের বোলিং বিভাগে প্রাপ্তি আছে। ব্রিলিয়ান্ট বোলিং করেছে আমাদের পেসার এবং স্পিনাররা। বিশেষ করে রিশাদ। ওর জন্য এটা বড় মঞ্চ ছিল নিজেকে প্রমাণ করতে। সে সব মিলিয়ে ভালোই করেছে। সব মিলিয়ে দেখেন, এই বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলেছি।'
তবে টুর্নামেন্টে যে ব্যাটাররা ব্যর্থ ছিল, বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যাটাররা, সেটা অবশ্য পরে তিনিও মেনে নেন। এবং এ নিয়ে দলকে আরো বেশি কাজ করতে হবে বলেও জানান। এ প্রসঙ্গে বলেন, 'ব্যাটিংয়ে এভাবে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হতে আমরা এর আগে কখনো দেখিনি। হয়তো এক জন ফেইল করেছে, আরেক জন গিয়ে কভার করেছে। টপ অর্ডারের পর মিডল অর্ডারেও আমরা ফেইল করেছি। তবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা বেশি। সবাই স্বীকার করে। খেলোয়াড়েরাও স্বীকার করে। কেউ মাঠে গিয়ে খারাপ করতে চায় না, সবাই ভালো খেলতে চায়। কিন্তু কেনো কোনো জায়গাটাতে দুর্বলতা আছে ব্যাটিংয়ের এটা আমাদের খুঁজে বের করে কাজ করতে হবে।'