আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পর পর তিন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হারতে চলেছিল ভারত। প্রায় তাদের কাছ থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই নিয়েছিল প্রথম বারের মতো ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ১৭তম ওভারে বল করতে এসে প্রোটিয়াদের মারকুটে ব্যাটার হেনরিখ ক্লাসেনকে ফিরিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরায় হার্দিক পান্ডিয়া। ইনিংসের শেষ ওভারেও বল হাতে ফের আসেন তিনি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৬ বলে ১৬ রান। স্ট্রাইকে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ‘কিলার মিলার’ খ্যাত ডেভিড মিলার। তিনি পান্ডিয়ার করা প্রথম ওয়াইড ফুলটস বলেকে লং অফে উড়িয়ে মারে ছয়ের লক্ষ্যে। তবে বাউন্ডারি লাইনে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ ধরেন সূর্য কুমার যাদব। আউট হন মিলার তাতেই মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের শিরোপা। যদিও ঐ ক্যাচ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গুটি কয়েক বিতর্ক। তবে ম্যাচ জেতানো এ ক্যাচ নিয়ে বেশ প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে এই চোখ ধাঁধানো ক্যাচ নিয়ে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে সূর্য বলেন, ‘এখন বলা সহজ। কিন্তু সেই সময় (ক্যাচ ধরার সময়) মনে হচ্ছিল ট্রফিটা বাউন্ডারি লাইন পেরিয়ে অন্য কারও কাছে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সেই সময় বলটি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে যাবে নাকি ছক্কা হবে, তা ভাবিনি। আমার হাতে যা ছিল তাই চেষ্টা করেছি। আর এটা করতে বাতাস বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা ফিল্ডিং কোচের সঙ্গে এই বিষয়ে (সীমানা রেখার কাছে ক্যাচ ধরা) অনেক অনুশীলন করেছি এবং এরকম অনেক ক্যাচ নিয়েছি। তাই ম্যাচে যখন এই ধরনের ক্যাচ আসে, তখন আমাদের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে দেয় যা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে ফাইনাল শেষে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সূর্যের এই ক্যাচ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। অনেকের মতে ক্যাচ নেওয়ার সময় বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করেছে সূর্যের পা। যদিও ম্যাচ চলাকালীন টিভি আম্পায়ার কয়েকটি ক্যামেরার ভিডিও দেখে আউট ঘোষণা করেছিলেন মিলারকে। তবে এটি মেনে নিতে পারেনি প্রোটিয়া সমর্থকরা। তাদের দাবি সূর্যের পা বাউন্ডারি লাইনে লেগেছে। যদিও ক্যাচ নিয়ে এমন বিতর্কে যাননি প্রোটিয়ারা। ম্যাচ শেষে এনিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এটা এখনো দেখিনি। দেখতে পারিনি। হ্যাঁ, রিপ্লে একটু দ্রুতই হয়েছে। অবশ্যই তারা বেশ নিশ্চিতই ছিল যে এটা আউট এবং এই কারণেই রিপ্লে দ্রুত দেখেছে।’