দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বাবুল খুন: মেয়র লাপাত্তা, স্থবির পৌর কার্যক্রম 

রাজশাহীর বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গিয়ে খুন হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। এ ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন মেয়র আক্কাছ আলী। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বাঘা পৌর সভার কার্যক্রম। 

স্থানীয় লোকজন জানান, বাঘা পৌরসভায় বিশেষ কোন উন্নয়ন না হলেও পৌর কর না দিয়ে দিলে রেহাই পাওয়া যায় না। বিগত সময়ে পৌর এলাকায় বাড়ি প্রতি যে ট্যাক্স নেওয়া হতো, এখন তার দ্বিগুণের ও বেশি দিতে হয়। অথচ সকল পৌর সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসীরা। পানি নিষ্কাসন এবং উন্নত ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এখানে।  

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস সরকার জানান, বর্তমান মেয়র আক্কাছ আলী দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। গত এক বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই পৌরসভা কেবল নগর অবকাঠামো ও বেতন ভাতা বাবদ পেয়েছে ৯৮ লাখ টাকা। এ ছাড়াও প্রতি বছর রাজস্ব থেকে পাওয়া যায় আরও প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এ অর্থের বাইরে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল(এডিপি) খাতেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আসে। অথচ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মীচারিরা গত ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। 

এ দিকে মেয়র আক্কাছ আলীর নামে গত ২২ জুন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল স্বাক্ষরিত দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত একটি অভিযোগে জানা গেছে, আক্কাছ আলী ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে অবৈধ অর্থ উত্তোলন করেন। এ ছাড়াও হাট বাজার ইজারার টাকা আংশিক ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকিটা নিজে আত্মসাৎ করেন।

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রায় ডজন খানেক নেতা-কর্মী জানান, গত ২২ জুন মেয়র আক্কাছ আলীর এ সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে  মানববন্ধন করতে গেলে বর্বরোচিত হামলা করে আক্কাছ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে গুরুতর আহত হন দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। ২৬ জুন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

তবে বাবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী আক্কাছ আলীকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। বাবুল মারা যাওয়ার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন তিনি। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বাঘা পৌরসভার কার্যক্রম। গত ১০ দিনে বাঘা পৌরসভায় কোন অর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়নি। অনেকেই নাগরিক সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন। 

আক্কাছ আলীর অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা পৌরসভার সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, এখন মেয়র নেই। আমার কাছ থেকে পৌরসভার কোনো তথ্য নিতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।