জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুকে হত্যা মামলার দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে দিনব্যাপী হরতাল পালন করেছে সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল থেকে শহরের নয়াপাড়া এলাকায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে রহমতুল্লাহর সমর্থকেরা। এ ছাড়া উপজেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় উপজেলা শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসানুজ্জান সাগর জানান, গত সোমবার একটি হত্যা মামলায় জামারপুর আদালতে জামিন নিতে গেলে বিচারক উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুর জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদে আমাদের আন্দোলন। দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি মাহামুদুল হাসান জানান, হরতালে মাদারগঞ্জ থানার পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন কারা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজারের ঠাকুরবাড়ি মোড়ে জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে রায়হান রহমতুল্ল্যাহ রিমুর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় ব্যবসায়ী নওশের আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নওশেরর। এই ঘটনায় নিহত নওশের আলীর বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হন মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান রহমতুল্ল্যাহ রিমু। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।