প্রাত্যহিক জীবনে মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি অতি প্রয়োজনীয় হলো চিকিত্সা। সঠিক চিকিত্সাসেবাই পারে একজন অসুস্থ এবং জরাজীর্ণ মানুষকে আরোগ্য লাভের পথ বাতলে দিতে। ইদানিং প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগব্যাধি। তার ওপর আবার যদি চিকিত্সাসেবা নিতে গিয়ে দালালচক্র অথবা অব্যবস্থাপনার সম্মুখীন হতে হয় তাহলে তো জীবন কণ্টকাকীর্ণ। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ক্লিনিক সেন্টারগুলোতে হরহামেশাই দালালচক্রের হাতে জিম্মি হচ্ছে আমজনতা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে চিকিত্সা নিতে যাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।
অব্যবস্থাপনা এবং দালালি সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক বেশি নজরে পড়ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পিজিসহ দেশের সরকারি স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোতে এসব কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো। এখানে অধিকাংশ মানুষই আসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং স্বল্প আয়ের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও যেখানে চিকিত্সাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে গুটিকয়েক দালালচক্র টাকার বিনিময়ে নিমিষেই চিকিত্সাসেবা পেয়ে যাচ্ছে। এদিকে জনদুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। দালানচক্রের খপ্পরে পড়ে রিক্ত হাতে ফিরতে হচ্ছে নিজ নীড়ে। সেই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি তো আছেই। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, চিকিত্সাসেবায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গের পরিবার-পরিজনসহ পরিচিত ব্যক্তিরাই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এতে করে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছে তেমনি সঠিক চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর কত হয়রানি এবং দুর্ভোগের শিকার হবে সাধারণ মানুষ? এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষজন আশাহত হয়ে পড়ছে। সঠিক চিকিত্সা সেবার অভাবে সংক্রামক রোগব্যাধিগুলো দ্রুতগতিতে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে সংক্রমিত হচ্ছে। উচ্চবিত্তরা ভালো এবং উন্নত চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। এতে দেশের আর্থিক উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সঠিক চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। তাছাড়া অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা দূর করে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হোক। এর সঙ্গে প্রশাসনের সঠিক ব্যবস্থাপনা, চিকিত্সা খাতে আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত চিকিত্সা উপকরণাদি এবং দালালমুক্ত চিকিত্সাসেবা দানে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দবি। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাও অতীব প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা দরকার। এর মাধ্যমে যেমন জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে তেমনি সবার জন্য চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ফরাসি ভাষা এবং
সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।