রাজপথে আগুন জ্বালিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। বুধবার (৩ জুলাই) বিকালে যশোরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রদের রাস্তায় নামতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের আগে শেখ মুজিব যখন কারাগারে, তখন ছাত্র আন্দোলনে ছাত্ররা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, সেই স্লোগান এখন আওয়ামী লীগের পছন্দ হয় না। তখন ছাত্ররা স্লোগান দিতো ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো। আগুন জ্বালো রাজপথে। এই আগুন জ্বালিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। ছাত্র তরুণকে রাস্তায় নামতে হবে। আপনারা রাস্তায় নামেন। আগেও ছিলাম, এখনও আমরা আছি। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী তিনি হাতে তালি দিতে বলেন। এ সময় মুহুমুর্হু হাতে তালি দেন নেতাকর্মীরা। এই তালি বেগম জিয়ার মুক্তির অগ্রিম অর্ভ্যথনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে জেলা বিএনপির আয়োজিত এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় শহরের টাউন হল ময়দানে। দুপুর থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। যশোরের আট উপজেলা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ জাতীয় পতাকা ও দলের পতাকা নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ স্থলে এসে মুহুমুর্হু স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে পরাজিত করতে চাই। পরাজিত করতে চাই ফ্যাসিবাদকে। পরাজিত করতে চাই স্বৈরাচারকে। এখানে কোনো আপোস নাই। বাংলাদেশ বাংলাদেশের মতো চলবে। অন্যদেশের পরামর্শে চলবে না। সেটা হবে না, হবে না। হতে দেওয়া যাবে না। দলের নেতাকর্মীদের মন শক্ত আর চাঙ্গা থাকতে বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো সময়ে ঘোষণা আসতে পারে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, আর শেখ হাসিনার পতনের। আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি শেষ হয়ে গেছে। বিএনপি শেষ হওয়ার দল না। ৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কেউ ছিল না। যখন শহীদ জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরি। জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দলের খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেরা নাজমুল মুন্নী, আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সামাদ আজাদসহ অনেকে।