সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে চমকপ্রদ দল ছিল আফগানিস্তান। কোনো অঘটন নয় বরং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে প্রথম বারের মতো খেলেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। বড় বড় ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে ভূরি ভূরি। তবে প্রদীপের নিচে যেমন অন্ধকার থাকে। তেমনটাই রয়েছে আফগান ক্রিকেটেও। দেশের পুরুষ ক্রিকেটাররা যখন বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, অন্যদিকে দেশটির নারী ক্রিকেটাররা হারিয়েছেন তাদের খেলার অধিকার।
ক্রিকেটের পরাশক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়া। তাদের ঝুলিতে আছে ছয়টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে সেই শক্তিশালী অজিদের হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস লিখে রশিদ-নবীরা। যদিও এখন পর্যন্ত এই দুই দলের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেই একসঙ্গে দেখা যায়, এই দুই দলকে। তবে ভারত-পাকিস্তানের মতো এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত না হওয়া কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। একাধিক বার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন আফগানরা।
তবে সেসব সিরিজ স্থগিত করে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা আলোর মুখ না দেখা ও দেশটির নারীরা যথাযথ অধিকার না পাওয়ার বিষয়গুলোকে। বৈশ্বিক আসর ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেবল একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে আফগানিস্তান। তা-ও সেটা ২০১২ সালে। ২০২১ সালে টেস্ট খেলার কথা থাকলেও নারী অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তা স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া। এরপর গত বছরের মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও তারা স্থগিত করে দেয়। সেই স্থগিত করা সিরিজটি পুনরায় স্থগিত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
বিষয়টি এক বিবৃতিতে জানান ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী নিক হকলি। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় নিয়ে তাদের (আফগানিস্তান) দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট কেটেছে এবং তারা সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে খেলেছে। আমরা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিয়মিত আলোচনা করছি এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের উন্নতি দেখতে চাই।’