দেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিবচরে: আইনমন্ত্রী

মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাদেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার (৬ জুলাই) সকালে শিবচরে প্রস্তাবিত একাধিক জায়গা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শনে এসে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ থেকে শিবচরে আমরা দুটি প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। চিফ জুডিশিয়াল একাডেমি করার জন্য প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। যার নাম হবে, বাংলাদেশ আইন বিশ্ববিদ্যালয়। মাদারীপুর জেলার শিবচরেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টি করার পরিকল্পনা করেছি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও বলেন, এটি হবে দেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত আমরা এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি পরিদর্শন করতে। সেই আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমরা শিবচরের বিভিন্ন স্থানে তিনটি জায়গা পরিদর্শন করেছি। স্থানগুলো হলো, পদ্মা সেতুর কাছাকাছি কুতুবপুরে পদ্মা রেলস্টেশনের পাশে, পাঁচ্চর ইউনিয়নের বড় দোওয়ালী ও শিবচর পৌরসভার চর শামাইলে।

ছবি: ইত্তেফাক

মন্ত্রী বলেন, এগুলোর মধ্যে যে স্থানটিতে আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত বলে মনে হবে, আমরা সেই স্থানকেই বেছে নেব। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা জানিয়ে দেব, কোন স্থানে বাংলাদেশ আইন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। তবে আশা করি, বাংলাদেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয়টি শিবচরেই স্থাপিত হবে।

দেশে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিষয়ে আদালতে মামলা চলাকালীন প্রসঙ্গে আমি কখনো কোনো মন্তব্য করি না। আজও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ন সচিব (প্রশাসন-১) বিকাশ কুমার সাহা, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তারেক মঈনুল ইসলাম ভূইয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো. সেলিম, পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলায় কর্মরত বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।