অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন যে বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এ বিশ্বকাপে উসমান খাজার ফেরার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের কথাই সত্যি হলো। সেমিফাইনালের আগেই টপ অর্ডারের এ ব্যাটসম্যান ছিটকে গেলেন।
কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার জানিয়েছেন, ইনজুরি সারিয়ে ফিরতে খাজার তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। ফলে, এখন খাজা দেশে ফিরে আসন্ন অ্যাশেজের আগেই নিজের ইনজুরি সারানোর চেষ্টা করবেন।
গেল শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেই বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন খাজা। সেই ম্যাচে তার যখন ছয় রান তখন তিনি চোট পান। পরে সাত উইকেট পতনের পর যখন জয়ের জন্য অজিদের আরো ৫১ রান দরকার ছিল তখন আবারো বাধ্য হয়ে ব্যাট করতে নামেন। এবার যোগ করেন আরো ১২ রান। তবে, তাতেও জিততে পারেনি অজিরা। হারতে হয় ১০ রানে।
কোচ ল্যাঙ্গার বলেন, ‘ব্যাপারটা উসির (উসমান খাজা) জন্য খুব দুঃখজনক হলো। আমরা যে কৌশলে খেলছিলাম তাতে ওর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা ছিল।’ বোঝাই যাচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবার বার্মিংহ্যামের সেমিফাইনালের আগে তাই বাধ্য হয়েই কৌশল পাল্টাতে হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটিকে। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্বাগতিক দল ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অবশ্য এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হেসে খেলে জিতে গিয়েছিল অ্যারন ফিঞ্চের দল। খাজার বিকল্প হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন ম্যাথু ওয়েড। তিনি অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে আগে থেকেই ইংল্যান্ডে ছিলেন। এবার আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ঢুকে গেলেন। তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারেন বলেও আভাস দিয়ে রেখেছেন ল্যাঙ্গার। কোচ বলেন, ‘একাদশ কি হবে এখনো জানি না। তবে, ম্যাথু ওয়েড আসছেন। ও দারুণ ফর্মেও আছে।’ এদিকে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোয়িনিসও ছিটকে যেতে পারেন। তার ‘ব্যাক আপ’ হিসেবে মিশেল মার্শকে আগাম সবুজ সংকেতও দিয়ে রেখেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যদিও, স্টোয়িনিসের ব্যাপারে সেমিফাইনালের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট।
গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচ সাইড স্ট্রেনের কারণে খেলতে পারেননি স্টোয়িনিস। এবার তার চোটটা শরীরের অপর পাশে। কোচ ল্যাঙ্গার বলেন, ‘ওকে আমরা সারিয়ে তুলতে চেষ্টার কমতি করছি না। ওর ব্যাপারে আমরা ম্যাচের ৪৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।’ এর আগে কনুইয়ের ইনজুরি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন শন মার্শ। তার বিকল্প হিসেবে এখন স্কোয়াডে আছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব।