'স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট সমবায় গড়ে তোলা হবে'

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট সমবায় গড়ে তোলা হবে— এমন মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দর্শন সমবায় উন্নয়ন। তাঁরই আদর্শে সারা দেশে স্বপ্নের সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ বঙ্গবন্ধু সবসময় নিরন্ন মানুষের কথাই বলেছেন।

গতকাল সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ১০২তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোসাম্মৎ শাহানারা খাতুন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমবায়কে আধুনিক করতে আমার মন্ত্রণালয় অহর্নিশ কাজ করছে। সমবায় আইনকে যুগোপযোগী করাসহ খুব তাড়াতাড়ি দেশব্যাপী সমবায়ীদের ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। এভাবেই তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সাবলম্বী স্মার্ট নাগরিক গড়ে তোলা হবে। তাদের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার গুরুত্ব বোঝাতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ সমবায়ীর প্রত্যেকে যদি নতুন করে উৎপাদনমুখী কৃষিব্যবস্থায় আত্মনিয়োগ করে, তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই হবে উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা।

তিনি বলেন, এই বাংলার অমিত সম্ভাবনাময় সম্পদকে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের বাস্তব রূপ দরকার। এজন্য গ্রামীণ পর্যায়ে নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।
 
ওয়াদুদ বলেন, কাজকর্ম হবে পেপারলেস (কাগজবিহীন)। তথ্যপ্রযুক্তির জাদুস্পর্শের মাধ্যমে সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল করে গড়ে তুলতে উন্নত বিশ্ব থেকে আমাদের শিখতে হবে। দেশটা আপনার, আমার, আমাদের সবার। তাই দেশের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করতে হবে।

শাহানারা খাতুন বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী সবার জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে বিবেকের তাড়নায় পরিচালিত হতে হবে, ভালো কাজ করতে হবে। এর জন্য চাই ঐকান্তিক আগ্রহ ও সদিচ্ছা।

মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষিভিত্তিক সমবায় ভাবনার দিকে জোর দিয়েছিলেন। সমবায়কে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত করে কৃষি খাতকে বেগবান এবং এর বিধিমালাকে যুগোপযুগি করতে হবে।  

মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সমবায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে আর্থসামাজিক উন্নয়ন। এর মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা আসে, কর্মসংস্থান হয়, দারিদ্র বিমোচন হয়, সামাজিক সুনাম বৃদ্ধি পায়। সমবায়কে এগিয়ে নিতে এর সম্ভাবনাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। সকল দূর্বল সমিতিকে সবল করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা ছিল ৬৫ হাজার গ্রামে সমবায় সমিতি গড়ে তোলা হবে। সে ঘোষণা ঘোষণাই রয়ে গেছে। বিক্ষিপ্তভাবে সমবায় সমিতি হয়েছে।
 
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে ট্যাক্সের বিষয় মওকুফ করা হলে সমবায় আরও শক্তিশালি হবে। পাশাপাশি কর্মীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করলে কর্মস্পৃহা বাড়বে।

আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।