সিদ্ধান্ত বোর্ডের হাতে দিলেন সরফরাজ

বিশ্বকাপের বেশ আগে থেকেই এই সমালোচনাটা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান দল সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সেই সমালোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, পাকিস্তান দলের সামনে এগোনোর উপায় হলো অধিনায়ক পদ থেকে সরফরাজকে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু করাচিতে পৌছানোর পর সরফরাজ পরিষ্কার করে বলটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সরফরাজ বলেছেন, তিনি নিজে তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করে যেতে চান। কিন্তু তাকে এই দায়িত্বে রাখা হবে কি না, সেটা পিসিবির ব্যাপার বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির বর্তমান অধিনায়ক।

বছরের শুরুর দিকে সরফরাজ বলেছিলেন, বিশ্বকাপের পর তিনি টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে নতুন করে চিন্তা করবেন। কিন্তু এখন বলেছেন, তাকে সরে যেতে না বললে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন না।

সরফরাজ বলেছেন, বোর্ড বললে তিনি সরে যেতে প্রস্তুত আছেন, ‘ব্যাপারটা এমন নয় যে, আমি পদত্যাগ করতে রাজী নই। আমি যেটা বলছি, এটা একান্তই পিসিবির সিদ্ধান্ত। আমাকে অধিনায়কত্ব দেওয়াটাই তাদের সিদ্ধান্ত ছিলো; সরিয়ে দেওয়াটাও তাই হবে। আমি নিশ্চিত তারা পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরে। এই পরাজয়ে তারা কেবল ২টি পয়েন্ট হারায়নি। তাদের নেট রান রেট এতোটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে, পরের জয়গুলো দিয়েও সেটা ভালো করতে পারেনি। ফলে নিউজিল্যান্ডের সমান পয়েন্টের মালিক হয়েও নেট রান রেটে বাদ পড়েছে দলটি। এই কথাটাই বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সরফরাজ বললেন, এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা ভেসে যাওয়াও একটা ভূমিকা রেখেছে, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে একেবারেই ভালো করতে পারিনি। তবে এরপর স্বাগতিক ও ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মোমেন্টামটা পেয়েছিলাম আমরা।’

এই বিশ্বকাপে খারাপ করার জন্য কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি সরফরাজদের। কখনো কখনো সেই সমালোচনা ব্যক্তি ও পরিবারের পর্যায়েও পৌছেছিলো। সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও কিছু ব্যাপারে কষ্ট পাওয়ার কথাটাই বললেন সরফরাজ, ‘যখনই আপনি খারাপ খেলবেন, সমালোচনা হবেই। আমরা শুরুতে খারাপ খেলেছি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর অনেক কিছু হয়েছে। খেলোয়াড়রা খুবই কষ্ট পেয়েছে। আমরা যে কোনো সমর্থকের মতোই পরাজয়ে দুঃখ পেয়েছি। পরের সাত দিন আমাদের সাথে যা যা ঘটেছে, সেটার সাথে মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন ছিলো। এই সময়ে অবশ্য কিছু সাবেক খেলোয়াড়, যারা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন, তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন। আমি ১৫ সদস্যের দল নিয়ে একটা মিটিং করেছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, আমরা কী ভুল করছি। দল খুব ভালো সাড়া দিয়েছে। এরপরই আমরা পরের চারটা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিলাম।’