ট্যাংকবিধ্বংসী ‘নাগ’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের

শত্রুপক্ষের ঘুম হারাম করতে খুব শিগগিরই ভারতের হাতে উঠছে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘নাগ’। রবিবার রাজস্থানের পোখরান ফায়ারিং রেঞ্জে এ ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি সফল পরীক্ষা করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এ তিনটি পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে ডিআরডিওর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এদিন ডিআরডিওর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাতের অন্ধকারে এবং দিনের আলোয় এ পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনটি পরীক্ষাই সফল হয়েছে।’ সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নাগের অন্তর্ভুক্তি একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা যাচাই করে দেখতে গতকালও একদফা পরীক্ষার কথা ছিল, তবে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত বছর প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত কেনাবেচার দায়িত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল সেনাবাহিনীতে নাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির (নেমিস) অন্তর্ভুক্তিতে সায় দেয়। ডিআরডিও-ই এ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা এবং নির্মাণ করে। তাতে লঞ্চপ্যাড থেকে প্রতিপক্ষের ট্যাংকে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যান রয়েছে। সেগুলো হাতে পেতে খরচ পড়ছে ৫২৪ কোটি রুপি। দিনের আলোয় হোক বা রাতের অন্ধকারে, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্র। মাটি এবং আকাশ, দুই জায়গা থেকেই ছোড়া যায় নাগ। মাটি থেকে ছুড়লে ৫০০ মিটার থেকে চার কিলোমিটার দূরত্বে থাকা ট্যাংককে নিমেষে গুঁড়িয়ে দিতে পারে এটি। আবার আকাশ থেকে ছুড়লে সাত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।—আনন্দবাজার পত্রিকা

৯৮০ নাগাদ ইন্টেগ্রেটেড মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, নাগ তার মধ্যে অন্যতম। এ প্রকল্পের আওতায় বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হলো—অগ্নি, পৃথ্বী, আকাশ এবং ত্রিশূল। যার মধ্যে অগ্নি, পৃথ্বী এবং আকাশ ইতিমধ্যেই সেনার হাতে পৌঁছেছে। মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় ত্রিশূল ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণ।