রিকশায় করে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করেন রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা শারমিন সুলতানা। প্রতিদিনের মতো গতকালও রাস্তায় বের হয়ে রিকশা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাকে। ছেলেকে কোলে নিয়ে পায়ে হেঁটে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ আসা-যাওয়া করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর ও সাইন্সল্যাব-শাহবাগ রিকশা চলাচল বন্ধ থাকার কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ঐসব এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে, বাচ্চা নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অভিভাবকদের। গাবতলী থেকে আজিমপুর (মিরপুর রোড) রোডে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। এসব রোডের আশপাশের এলাকা পুরোটাই আবাসিক হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রে রিকশাই যাতায়াতের সহজ মাধ্যম। ঐ এলাকার মানুষ গতকাল যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষ সকালে বাসা থেকে অফিস কিংবা কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে বের হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফেরার পথেও একই ভোগান্তি হয়েছে তাদের। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণে পায়ে হেঁটেই পথ চলেছেন অনেকে। আবার এ সুযোগে অন্য পরিবহনগুলো বেশি ভাড়া দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
আজিমপুর কলোনির বাসিন্দা শরিফ আহম্মদ বলেন, প্রতিদিন সকালে রিকশায় ছেলেকে নিয়ে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে যাই। ফেরার পথেও রিকশায় আসি। কিন্তু রিকশা বন্ধ হওয়ার কারণে পায়ে হেঁটেই যাওয়া-আসা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে কয়দিন চলা সম্ভব। রাস্তায় গণপরিবহন নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বাসের জন্য। আবার দুই-একটা পরিবহন থাকলেও ঠেলাঠেলিতে বাচ্চা নিয়ে বাসে উঠা যায় না। রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুলতান হোসেন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, রিকশা বন্ধের সুযোগ নিচ্ছে অন্য পরিবহনগুলো। বিশেষ করে যেসব রাস্তায় গণপরিবহন নেই, সেখানে সিএনজিতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করছেন চালকরা। রিকশা বন্ধ হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। প্রধান সড়কে বন্ধ হোক। তাতে শৃঙ্খলা ফেরবে। তবে এর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় গণপরিবহন বাড়াতে হবে। আবার যেসব রাস্তায় চলাচলের একমাত্র ভরসা রিকশা, ঐসব এলাকার ভেতর থেকে রিকশা তুলে দেওয়া ঠিক হবে না।
ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট নতুন কিছু নয়। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাওয়া যায় না। লোক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট বেড়েই চলছে। আর এ সুযোগে যাতায়াতের অন্য বাহনগুলো ছেয়ে গেছে পুরো ঢাকায়। প্রধান সড়কগুলোতেও অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি রিকশাও চলতে দেখা যায়। এতে সৃষ্টি হয় যানজট। সড়ক ও ফুটপাতে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর ঐ তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে গঠিত কমিটি। বিকল্প ব্যবস্থা না করে কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে রাস্তায় চলাচলে দুর্ভোগের কথা বললেও অনেকে এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাত্রী, অন্যান্য পরিবহনের চালকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
সিএনজির চালক সুমন হোসেন বলেন, সড়কে রিকশা চলাচলে অসুবিধা অনেক। নিয়মিতই দেখবেন, তিন লেনের রাস্তার দুই লেন রিকশার দখলে। এসব কারণে মূল সড়কগুলোয় যানজট সৃষ্টি হয়। প্রধান সড়কে ইচ্ছেমত দাঁড়িয়ে যায়, ডানে বামে টার্ন নেয়, ইচ্ছেমতো দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। ফলে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা থাকে না।