ঢাকার ওয়ারীতে সাত বছরের শিশু সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেছে ‘নারী সংহতি’। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, ‘বিচারহীনতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া এই সমাজে শিশুদেরও আর একা পথ চলার কোনো সুযোগ থাকছে না’। এই অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ঐক্য ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। নারী-শিশুর জন্য, সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্ষণ ও যৌননিপীড়নের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল সোমবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ওয়ারীতে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে ছোট্ট সায়মাকে। মোহাম্মদপুর কলেজের শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন কলেজের ছাত্রীকে। নারায়ণগঞ্জের এক স্কুলের শিক্ষক একাই ২০ জনের বেশি ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষক ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। একের পর এক নারী-শিশুর ওপর নৃশংস নিপীড়ন-ধর্ষণ-যৌননিপীড়ন চলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমরা কেউ জানি না এর পরের টার্গেট কে! দেশে নিরাপত্তাহীনতা এমন নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। তারা অভিযোগ করেন, একটা দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার বলে কিছু না থাকলে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যায়। সায়মার ধর্ষককে এক দিনের ব্যবধানে গ্রেফতার করা হয়েছে এটা আশার কথা। কিন্তু সমাজে কেন এত ধর্ষক, নিপীড়ক, অমানুষ তৈরি হচ্ছে সে দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, যারা ধর্ষণ-নিপীড়ন করে, তারা মনে করেছে দেশে বিচার নেই। এই অপরাধের কোনো শাস্তি হবে না। সমাজ নারীদেরকে পুরুষের সামনে ভোগ্যপণ্য হিসেবে হাজির করেছে। এ কারণে তারা নারী নিপীড়নে উত্সাহ পাচ্ছে।
সমাবেশে নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উত্তরা অঞ্চলের আহ্বায়ক সুলেখা রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক আফরিন আহমেদ হিয়া, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ ীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ ীয় নেতা বাচ্চু ভুঁইয়া, পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বাধীন চৌধুরী প্রমুখ।