দিনভর রিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছেন রিকশাচালক ও রিকশার মালিকগণ। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন রিকশাচালক-মালিকরা। অবরোধের ফলে যাত্রাবাড়ী থেকে মানিকনগর-মুগদা-বাসাবো-মালিবাগ পর্যন্ত প্রধান সড়কটি বন্ধ হয় যায়। ‘ঢাকা বৃহত্তর দক্ষিণ-উত্তর সিটি করপোরেশন অনুমোদিত রিকশা-মালিক নিবন্ধিত ছয়টি সংগঠনের সমন্বয় পরিষদ’ ব্যানারে হাজার হাজার রিকশা শ্রমিক ও মালিক মুগদা, মানিকনগর, মান্ডাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কে বসে পড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই সড়কে সকল ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ জনগণ ও পথচারীরা। অনেকে বাস ও রিকশা না পেয়ে  হেঁটে কর্মস্থলে গেছেন।

বেলা দেড়টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের স্থানীয় কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দেন। মুগদা ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএম সিরাজুল ইসলাম, মান্ডা ৭১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম, ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুজ্জামান খায়রুল রিকশা শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেন। তারা বিষয়টি ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে রিকশাচালক ও মালিকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। রিকশাচালদের ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন।

মুগদা এলাকায় অবরোধে অংশ নেওয়া তরুণ খাঁ নামের একজন রিকশাচালক বলেন, ৫ বছর ধরে এই সড়কে রিকশা চালিয়ে ৫ জনের সংসার চালান। এখন সরকার ঘোষণা দিচ্ছে প্রধান ৩টি বড়ো সড়কে রিকশা চালাতে দেওয়া হবে না। তাহলে রিকশা কি শুধু গলি দিয়াই চালামু। বড়ো রাস্তায় গ্যালেই পুলিশ আনসার ফিরাইয়্যা দেয়। তাহলে আমরা রিকশা চালামু কোথায়? আমাদের রিকশা চালাইতে দেন। গরিবের প্যাটে লাথি দিইয়েন না।

গত ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটির (ডিটিসিএ) এক বৈঠকে গাবতলী থেকে আসাদগেট হয় আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা হয় খিলগাঁও-সায়েদাবাদ পর্যন্ত রিকশাসহ অন্যান্য অবৈধ ও অননুমোদিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন, ‘আমরাও রিকশাচালক ও মালিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। রিকশা শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান না করে তাদেরকে মূল সড়কে চলাচল বন্ধ করা মানেই পেটে লাথি মারা হয়েছে। 

জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী ইত্তেফাককে বলেন, যারা আন্দোলন করছেন, তারা সাধারণ রিকশা শ্রমিক ও মালিক। রিকশা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। আমরা চাই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হোক। এ ব্যাপারে আমরা ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব।