চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া এখন নতুন করে বানের জলে প্লাবিত হচ্ছে। বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত বন্যাকবলিত থাকে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম। পথঘাটে পানি উঠে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা। তখন হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠে নৌকা। তাই এ সময়ে বেড়ে যায় নৌকার কদর। নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয় কারিগররা। নতুন নৌকার পাশাপাশি অনেকে পুরাতন নৌকা মেরামতের জন্যও ছুটে আসেন তাদের কাছে।
সরেজমিনে উপজেলার সাতপুকুরিয়া, ডাহিয়া ও বিয়াশ বাজার ঘুরে দেখা যায় কারিগররা নৌকা তৈরি ও পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা জানান, নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
সাতপুকুরিয়া বাজারে তিনটি পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজ করছেন রফাত নামের এক কাঠমিস্ত্রি। তিনি বলেন, সারাবছর কাঠের কাজ করি। বর্ষার সময় এলে কিছু নৌকার কাজ আসে। এতে বাড়তি আয় হয়।
বিয়াশ বাজারের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানান, আমার কারখানায় ৫ জন কারিগর কাজ করেন। কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি করা হয়। এছাড়া আলকাতরা, তারকাটা ও গজলসহ বেশ কিছু উপকরণ প্রয়োজন হয়। এ বছর ৭০টি নতুন নৌকা তৈরি করেছি। এসবের বেশিরভাগই ছোট ডিঙি নৌকা।
তিনি আরও জানান, আকার ভেদে ছোট ডিঙি নৌকা তৈরির মজুরি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা নেওয়া হয়। কাঠসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নৌকার মালিক কিনে দেন। এ বছর কাঠের গুনগত মান ও আকৃতি অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ পড়ছে নৌকা প্রতি। নৌকা তৈরির কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার খরচ বেশি পড়ছে।