লাইসেন্স ও রুটপারমিট ছাড়া চলছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন। এসব গাড়ি কেমনে চলে পুলিশও বলতে পারছেন না। দ্বিমুখী যান চলাচলের এ সড়কে মাঝখানে কোনো ডিভাইডার নেই। ফলে প্রতি মুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। গণপরিবহনের অনুমোদন নিয়ে চলাচলরত বাসগুলো ৩০ থেকে ৫০ টাকার কম ভাড়ার কোনো যাত্রী বহন করছে না। ফলে যাত্রীদের চাহিদার কারণে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে ছোটো যান চলাচল বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এসব গাড়িকে মহাসড়কে বিআরটিএ ও পুলিশ অনুমোদন না দিলে চলছে দেদারছে। যাত্রীরাও নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এসব গাড়িতে যাতায়াত করছে।
মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনে গণপরিবহনের বাস ও হিউম্যান হলার ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি যাত্রী পরিবহন করতে পারে না। তারপরও চলছে ছোটো আকৃতির টেম্পো, ম্যাক্সিমা ও অটোরিকশা। এসব গাড়ির নেই কোনো রুটপারমিট। থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাস মালিক সমিতি সবাই স্বীকার করছে রুটপারমিট ছাড়াই মহাসড়কে এসব গাড়ি চলছে। অদৃশ্য কারণে বন্ধ করা বা ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এসব যানবাহনের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পটিয়া, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া অংশে তিন চাকার টেম্পো দেদারছে চলাচল করছে। এ সড়কে দূরপাল্লার শত শত কোচ চলাচল করছে। সময়ের ব্যবধানে সড়কে যানবাহন চলাচলের চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও সড়কের পরিধি বাড়েনি। মহাসড়কে টেম্পো ও অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে বিআরটিএ এসব গাড়ির রুটপারমিটও দিচ্ছে না। তারপরও কীভাবে এসব গাড়ি চলে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ আলম বলেন, ‘মহাসড়কে চলাচলের জন্য টেম্পো ও অটোরিকশার রুটপারমিট দেওয়া হয় না। যেসব গাড়ি চলছে তা অবৈধভাবে চলছে। আমরা মোবাইল কোর্ট করে গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
মহাসড়কে এসব গাড়ি চলাচল নিয়ে বাস মালিক সমিতির অভিযোগ রয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাস মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে টেম্পো ও অটোরিকশা চলছে। লাইসেন্স ও রুটপারমিট কিছুই নেই। আমরা প্রায় সময় অভিযোগ করে থাকি। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
পটিয়া (ক্রসিং) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজান বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার কারণে মহাসড়কে অবৈধভাবে টেম্পো চলাচল করছে। ব্যবস্থা নেওয়াও যাচ্ছে না। তাই আমরা পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্ণফুলী সেতু থেকে শান্তিরহাট পর্যন্ত হিউম্যান হলার সার্ভিস চালু করেছি। এ সার্ভিস বাদামতল পর্যন্ত বর্ধিত করার চেষ্টা চলছে। বড়ো বাসগুলো লোকাল করছে না। ফলে যাত্রীদের চাহিদার সুযোগ নিচ্ছে টেম্পোগুলো।’
লোকাল বাস না থাকায় কাছের যাত্রীরা সমস্যায় রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একসময় প্রচুর লোকাল বাস চলাচল করত। এখনো এসব বাস চলাচল করছে। কিন্তু দেখা যায় লোকাল বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে সিট ক্যাপাসিটি যাত্রী পরিবহন করছে। গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ও মানা হচ্ছে না। ফলে মহাসড়কে যাতায়াতকারী কাছের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে।