ধর্ষণ তদন্তে দুর্বলতা দূর করার তাগিদ

ক্ষেত্রবিশেষে ধর্ষণ মামলার তদন্তে দুর্বলতা লক্ষণীয়। চাঞ্চল্যকর শিশু ও নারী নির্যাতন মামলার তদারকিতে গঠিত পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এমন অভিমত ব্যক্ত করেছে। আসামি গ্রেফতারে বিলম্ব, চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে মনে করছে ওই কমিটি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এম খুরশীদ হোসেনের  নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানের ১১টি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। এই পর্যালোচনা ও সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। এতে আসামি পলাতক এবং দ্রুত গ্রেফতারের পদক্ষেপ না নেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ধর্ষণ মামলায় সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত করতে তদন্তের নেতৃত্বে থাকবেন একজন সহকারী পুলিশ সুপার। একইসঙ্গে আদালতে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। ওই সভায় বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর ঘৃণ্য প্রকৃতির অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সভায় চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পর্যালোচনা সভার শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ০৭/০৪/২০১৯ তারিখের মামলা নম্বর-১২ নিয়ে আলোচনা হয়। এ মামলার বাদিনী মিনুয়ারা বেগমের অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি মো. সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই আসামিকে এতদিন গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একই সভায় কুমিল্লার হোমনা থানার মামলা নম্বর-৫, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী আছমা আক্তার তিশার এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি ওমান প্রবাসী দুলাল গ্রেফতার হয়েছে। অন্য আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তষ্টি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, দেবিদ্বার থানার ১৫/০৪/২০১৯ তারিখের মামলা নম্বর-১৩ এর বাদিনী মুন্নি আক্তারের এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি মো. নবীরুল মেম্বার ও মো. শহিদ খান পাখিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সভায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-১১, তারিখ-১০/০৫/২০১৯ এর বাদিনী মোসা. রানী আক্তার, একই জেলার শাহরাস্তি মডেল থানার মামলা নম্বর-১৪, তারিখ-১১/০৫/২০১৯ এর বাদিনী ফেরদাউস বেগম, নোয়াখালীর চর জব্বার থানার মামলা নম্বর-১, তারিখ- ১/০৪/১৯ এর বাদী মো. শাহজাহান, একই জেলার সোনাইমুড়ি থানার মামলা নং-৯, তাং-১১/০৪/১৯ এর বাদী মো. আব্দুল বাকী, মামলা নম্বর-৩৪, তারিখ- ২৮/০৪/১৯ এর বাদিনী পিয়ারা বেগম, ফেনীর সোনাগাজী থানার মামলা নম্বর-১৬, তারিখ-১৭/৪/১৯ এর বাদিনী মোসা. নাসিমা আক্তার, ব্রাহ্মণাড়িয়া সদর থানার মামলা নম্বর-৪৯, তারিখ-১৬/৪/১৯ এর বাদিনী শারমীন আক্তার এবং একই জেলার নাসিরনগর উপজেলার মামলা নম্বর-৮, তারিখ-১৪/৪/১৯ এর বাদিনী মোছা. মরিয়ম বেগমের এজাহারের সারাংশ পড়ে শোনানো হয়। এসব মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখাকে জানাতে বলা হয়।