নারায়ণগঞ্জে পরিবেশবান্ধব ল্যাম্বোরগিনি আদলে গাড়ি তৈরি করেছেন আকাশ নামে এক যুবক সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সম্প্রতি তার তৈরি সেই গাড়িতে সস্ত্রীক চড়েছেন সদ্য বিদায়ি জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া ও তার স্ত্রী। নিজ কার্যালয়ের সামনে নিজেই স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে গাড়িটি চালান তিনি। এ সময় সেখানে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ উত্সুক জনতার ভিড় জমে যায়।
একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাত্কার প্রদানের জন্য আকাশকে ডিসির কার্যালয়ে নিয়ে আসেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ বিষয়ে ডিসিকে অবগত করা হলে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নেমে আসেন এবং আকাশের তৈরি পরিবেশবান্ধব গাড়িটি দেখেন। এ সময় তিনি তার স্ত্রীসহ ঐ গাড়িতে চড়ে ডিসি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে ও আদালত প্রাঙ্গণ ঘুরে আসেন। গাড়ি চালানো শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক জানান, নারায়ণগঞ্জে এমন প্রতিভাবান ছেলের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। আমার মনে পড়ছে, বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় থ্রি হুইলার নিয়ে অনেক কথা হয়। পাশাপাশি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধের জন্য অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা যদি আকাশের ব্যাটারিচালিত গাড়িটিকে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারি তাহলে সড়কে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আমার বিশ্বাস। তখন দেখা যাবে ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলারের পরিবর্তে এরকম ৪ চাকার গাড়ি রাস্তায় চলবে। গাড়িটি বাজারজাত করার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সরকার থেকে পৃষ্ঠপোষকতা এনে দেওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করব। এই গাড়িটির ছবিসহ লিখিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করব। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে। আমার মনে হয় এই ৩টি স্থানে প্রতিবেদন প্রেরণের পর সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, সড়কে যেসব গাড়ি চলে তার অধিকাংশই পরিবেশবান্ধব হয় না। সাধারণত পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রতি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। তাই আমি মনে করি সরকারের সুদৃষ্টি সে (আকাশ) অচিরেই লাভ করবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ গাড়ির জগতে নতুন দিগন্তে উন্নীত হতে পারবে।
গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানোর পর বিদায়ী ডিসি গাড়ি নির্মাতা আকাশ আহমেদকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার কাজ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।